মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

আল-কায়েদার টার্গেট বাংলাদেশ

al-qaeda_28331

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশে শাখা স্থাপন করেছে। এই নতুন শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আল-কায়েদার বর্তমান প্রধান শেখ আয়মান আল জাওয়াহিরি এক ভিডিওবার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, আল-কায়েদার নতুন এ শাখা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, আসাম, গুজরাট, আহমেদাবাদ ও কাশ্মীরের মুসলমানদের জন্য কাজ করবে। এটি উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য ‘সুখবর’ বলে দাবি করেছেন জাওয়াহিরি। এ খবরে ভারতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।বুধবার অনলাইনে আল-কায়েদা-প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির এক ভিডিওবার্তা পাওয়া যায়। ভারতীয় গোয়েন্দারা এ ভিডিও জাওয়াহিরির কাছ থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের মুসলমানদের জিহাদের ডাক দেওয়া জাওয়াহিরি এবারের ভিডিওবার্তায় মূলত আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশ শাখা খোলার ঘোষণা দিয়েছেন। ৫৫ মিনিটের ভিডিওবার্তায় তিনি আল-কায়েদার বিভিন্ন ভাবাদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি বলেছেন, নিজেদের ভূমি মুক্ত করতে, এর সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনতে এবং খিলাফত পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে এবার ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য ‘আনন্দের খবর’ হলো আল-কায়েদার শাখা স্থাপন। এ পদক্ষেপ উপমহাদেশে ইসলামী আইনের প্রসার ও ‘জিহাদের পতাকা সমুন্নত রাখবে’। আল-কায়েদার নতুন এ শাখা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, আসাম, গুজরাট, আহমেদাবাদ ও কাশ্মীরের মুসলমানদের ‘অবিচার ও আগ্রাসন’ থেকে উদ্ধার করবে। অঞ্চলটির (উপমহাদেশ) মুসলমান জনগোষ্ঠীকে বিভক্তকারী কৃত্রিম সীমান্ত ভেঙে দেবে নবগঠিত এ বাহিনী। আরবি ও উর্দুর সংমিশ্রণে প্রচারিত এ ভিডিওবার্তায় আফগানিস্তানের মোল্লা মাসুদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা হয়েছে। আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এদিকে জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তার সত্যতা খতিয়ে দেখতে র‌্যাব এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি, র‌্যাব সতর্ক রয়েছে। বার্তাটি খতিয়ে দেখতে র‌্যাব কাজ শুরু করেছে। তবে একে গুরুত্ব দেওয়ার তেমন কিছু নেই।’উর্বর স্থানগুলোকেই টার্গেট : মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় তৎপর থাকা আল-কায়েদায় জনবল বাড়ানোর জন্য মুসলিমপ্রধান ও নানা কারণে উর্বর স্থানগুলোকেই টার্গেট করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে- ভারতে আল-কায়েদার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া না গেলেও ভারত আল-কায়েদার এ ভিডিওবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ভিডিওবার্তায় দুই দফায় ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুজরাটের কথা বলা হয়েছে। গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার জন্য এমনিতেই স্থানীয় মুসলমানদের কাছে শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানে আছেন। সে সুযোগই নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তায়। অন্যদিকে, ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব রাজ্য আসামে স্থানীয়দের সঙ্গে মুসলিমদের বড় আকারের বিরোধ চলছে দুই বছর ধরে। আবার ভারত ও পাকিস্তানের উভয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধপূর্ণ পরিস্থিতিতে আছে কাশ্মীর। সেখানকার মুসলমানদের নিজস্ব স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিও আছে। আর গত জুনে ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধে কাশ্মীরের মুসলমানদের অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে একটি ভিডিওবার্তাও প্রচার করেছিল আল-কায়েদা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আল-কায়েদার সদস্য আহরণের উর্বর স্থান বলে মনে করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বৌদ্ধদের দ্বারা প্রায় নিয়মিত নির্যাতিত হন মুসলমানরা। আর ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের মুসলমানরা বেশ আগে থেকেই টাগের্টে রয়েছেন আল-কায়েদার।বাংলাদেশে জিহাদের ডাকের পর এলো শাখার ঘোষণা : মাত্র ছয় মাস আগে বাংলাদেশে জিহাদের ডাক দিয়ে ভিডিওবার্তা প্রচার করেছিলেন জাওয়াহিরি। ‘বাংলাদেশ : ম্যাসাকার বিহাইন্ড এ ওয়াল অব সাইলেন্স’ শীর্ষক সেই ভিডিওবার্তায় জাওয়াহিরি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এক বিরাট জেলখানা। এ দেশে মুসলমানদের সম্মান আজ ভূলুণ্ঠিত। মুসলমানদের ওপর একটি নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সত্য গোপন করছে। আর এই রক্ত ঝরছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ আজ এমন এক ষড়যন্ত্রের শিকার, যাতে ভারতীয় দালাল, পাকিস্তানের দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষমতালোভী, বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিবিদরাও জড়িত। বাংলাদেশে ইসলামের মৌল বিশ্বাস ও রসুলের (সা.) বিরুদ্ধে আজ যে অপরাধ ঘটানো হচ্ছে, তার বীজ বপন করেছেন এই ক্রিমিনালরাই। পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ঠেকানো বা পাকিস্তানি সামরিক শাসন থেকে মুক্তি- কোনোটাই এর মূল লক্ষ্য ছিল না। আসল লক্ষ্য ছিল এ উপমহাদেশে মুসলিম উম্মাহর ভিত্তি দুর্বল করা, মুসলমানদের বিশ্বাসকে ছিন্নভিন্ন করা, আঞ্চলিক বিভেদ আর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এর মৃত্যু ডেকে আনা।’ এসব কথা উল্লেখ করে জাওয়াহিরি তখন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মুসলিম ভাইয়েরা, ইসলামের বিরুদ্ধে যারা ক্রুসেড ঘোষণা করেছে, তাদের প্রতিরোধ করার জন্য আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।সতর্কতায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: কলকাতা প্রতিনিধি জানান, আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সকালেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর মতো নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সতর্ক করা হয়েছে দেশের প্রতিটি রাজ্যকেই। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে আইবি-কে ওই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৃহ মন্ত্রণালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ভিডিও বার্তার সত্যতা, আপলোডিংয়ের স্থান সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট যত দ্রুত সম্ভব মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আইবিকে।