শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

আজ মহিমান্বিত শবে কদর ও জুমাতুল বিদা

8_127241

আজ জুমার দিন। আজকের দিনটি এই রমজানের সর্বশেষ জুমা- জুমাতুল বিদা। বছরের যে কোনো জুমাই সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। আর রমজানের জুমা আরও অধিক ফজিলতপূর্ণ।রমজানের শেষ জুমা আমাদের সমাজে জুমাতুল বিদা হিসেবেই পরিচিত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআন বা হাদিসে অবশ্য ‘জুমাতুল বিদা’ বলতে কিছু নেই। এর কোনো স্বতন্ত্র ফজিলতও নেই। তদুপরি মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি ব্যাপক সমাদৃত।শুধু এ দেশেই নয় গোটা পৃথিবীতেই মুসলমানরা দিনটিকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালন করেন। দিনটির প্রতি মুসলমানদের এই আবেগ একেবারে অমূলকও নয়। কারণ, মূলত জুমার দিন অতি ফজিলতপূর্ণ। আর রমজানের জুমা তো আরও অধিক ফজিলতপূর্ণ। সে বিবেচনায় রমজানের শেষ জুমার প্রতি মুসলমানদের বাড়তি শ্রদ্ধাবোধ অযৌক্তিক নয়। উলামায়ে কেরাম বিষয়টির প্রতি বরাবরই মৌন সমর্থন দিয়ে এসেছেন।
আজকের জুমাটি অনেকের জীনে রমজানের শেষ জুমা হতে পারে। আগামী রমজানের আগে অনেকেই মারা যাবেন। কারোর তো জীবন-মৃত্যুর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে দিনটির প্রতি সবারই একটা আবেগানুভূতি রয়েছে। যত বেশি সম্ভব ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি কাটাতে হবে। জুমার দিনে একটি বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। সে বিশেষ সময়টা হচ্ছে, সূর্যাস্তের পূর্বমুহূর্ত। সে সময় বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। অন্য সময়ও দোয়া ও যে কোনো নফল ইবাদত করা যেতে পারে।
আজ ২৬ রজমান। আরবি মাস বা তারিখ গণনায় রাত আগে আসে। সে হিসেবে আজকের দিবাগত রাতটিই সাতাশ রমজানের রাত। শবে কদর। বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত। এই সে রাত, যে রাত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের পূর্ণ একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। রমজানের আগমনের আগেই হজরত মুহাম্মদ (সা.) সবাইকে এ রাতের ফজিলতের ব্যাপারে সজাগ করে দিয়েছেন। বলেছেন, এ রাত থেকে যে বঞ্চিত হয়, সে যেন সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।
আল্লাহতাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এ কোরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর তো হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতা স্বীয় পালনকর্তার নির্দেশে অবতীর্ণ হন। শান্তিই শান্তি, যা ফজরোদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদর)। সূরা দুখানে লাইলাতুল কদরকে বরকতময় বলা হয়েছে। আল্লাহতাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এ কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী, এ রাতে সব প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয স্থিরকৃত হয়। আমার আদেশক্রমে …। (দুখান : ৩-৫)।হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ঈমানসহ সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে জেগে থেকে ইবাদত করবে তার অতীতের সব পাপ মার্জনা করা হবে। (বুখারি ১/২৭০)। তবে ২৭ রমজানের রাতই শবে কদর হওয়া নিশ্চিত নয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর অনুসন্ধান কর।’ (বুখারী ১/২৭০)। আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর কোনো একটি ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯তম রাত শবে কদর।২৭ রমজানের রাতটি বেজোড় রাত হওয়াতে আজ রাতেও শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি হাদিসে অবশ্য নির্দিষ্ট করে ২৭ রমজানের রাতকেই শবে কদর বলা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের গোটা শেষ দশকেই শবে কদর অনুসন্ধান করতেন। ইতিকাফ করতেন। অপেক্ষাকৃত অধিক ইবাদত করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) ইরশাদ করেন, রমজানের শেষ দশকে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এত অধিক ইবাদত করতেন যা অন্য সময় করতেন না। (মুসলিম ১/৩৭০ তিরমিজি ১/১৬৪)। আজ রাতে জেগে থেকে সব নফল ইবাদতই করা যাবে। নফল নামাজ কোরআন তিলওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইস্তিগফার, দোয়া-দুরুদ সবই করা যাবে। নফল নামাজের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই পড়তে হবে।আজ রাতে বিশেষত দোয়া ও ইস্তিগফারে মনোনিবেশ করা উচিত। পবিত্র কোরআনে শবে কদরকে হাজার মাসের চাইতেও উত্তম বলা হয়েছে। হাজার মাসে ৮৩ বছর ৪ মাস হয়। ৮৩ বছর বয়স তো কম লোকই পান। তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়- শবে কদরের ইবাদত অনেকের সারা জীবনের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কত বড় তাৎপর্যময় কথা! সুতরাং শবে কদরের যথাযথ মূল্যায়ন করা সবার কর্তব্য। আজ রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা অশেষ সওয়াব অর্জন করব। তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেদের গোনাহ মাফ চাইব। তিনি যদি আজ আমাদের ক্ষমা করেন তাহলেই এ জীবন সার্থক হবে।