রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে পুতুল খেলা মনে করছে

40083_b7

আওয়ামী লীগ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বলেছিল তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচন করছে। সরকার গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তারা আরেকটি নির্বাচন দিতে চেয়েছিল। দেশের সব মানুষ এই কথা জানে। কিন্তু এখন তারা এটা অস্বীকার করছে। আওয়ামী লীগ নেতারা পত্রিকা খুলে দেখুক তারা এ কথা বলেছে কি না। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে পুতুল খেলা মনে করছে উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা স্বঘোষিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে আছে। জোর করে তারা জনগণের প্রতিনিধি হতে চায়। যেখানে শতকরা ৮২ ভাগ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এটা জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা। সরকার বিচার বিভাগকে ধ্বংস করতে চাইছে দাবি করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদে বিচারকদের অভিশংসন যে নিয়ম ছিল তা ১৯৭৫ সালে বাতিল করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন বিচারকদের অভিশংসন ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী করা হচ্ছে। আগামী রোববার যে বিল সংসদে উঠবে তাতে কি আছে আমরা জানি না। তিনি প্রধান বিচারপতিসহ সকল আইনজীবীকে এই বিল প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান। সংবিধানকে আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি মনে না করার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে বিল পড়ার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে রাজনীতির কারণে বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ না হওয়ায় এই বিলের বিরোধিতা করারও কেউ নেই। দেশে গণতন্ত্রের নামে আজাব চলছে উল্লেখ করে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, সংসদের ৩০০ ব্যক্তিই নিজেদের ক্ষমতার মালিক মনে করছে। তারা জনগণকে দূরের কথা সরকার, সুশীল সমাজকেও পাত্তা দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পেছনে ১৪ দলের আন্দোলনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ড. কামাল বলেন, ১৪ দলের প্রচেষ্টায় ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ হয়েছে। ওই নির্বাচন হলে তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। তখন আমাদের চেষ্টায় আদালতের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান থেকে ইয়াজউদ্দিনকে সরানো হয়েছে, এক কোটি চল্লিশ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। তখন বিএনপি আমার নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিয়েছে। অথচ আজ আওয়ামী লীগ বলছে বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় আনতে নাকি আমি ঐক্যের ডাক দিচ্ছি। কোন ব্যক্তি, দল বা পরিবারকে ক্ষমতায় বসাতে জাতীয় ঐক্য হচ্ছে না। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী নূর হোসেনের খুনির সঙ্গে জোট বেঁধে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তাকে নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ১৪ দল থেকে কেরামতি করে মহাজোট গঠন করা হয়েছে। জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালার সমালোচনা করে ড. কামাল বলেন, সংবিধানে সমপ্রচার নীতিমালার কাঠামো দেয়া হয়েছে। হঠাৎ করে সরকার একটা নীতিমালা চাপিয়ে দিয়েছে। সব গণমাধ্যম এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দুদকের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুদক একের পর এক জাদু দেখাচ্ছে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে হঠাৎ করে খালাস দেয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে না। তখন এই দুর্নীতিবাজরাই ধনী থেকে আরও ধনী হবে। এখন যারা গরিব আছে তারা আরও গরিব হবে। বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীনরা বলছে ভোট হলেই গণতন্ত্র হয় না। অথচ এখন তো ভোটই হয় না। বড় দুই দল যতদিন ক্ষমতায় থাকবে মানুষের অবস্থা তত বেশি বিপন্ন হবে। এক দল ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। আরেক দল ক্ষমতা থেকে নামাতে চাইছে। এ অবস্থায় শুধু মুক্তিযুদ্ধের নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বায়ক এডভোকেট আ.ব.ম মোস্তফা আমিন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম, গণফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য মফিজুল ইসলাম কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।