Sunday, May 31Welcome khabarica24 Online

মুক্তাঙ্গন

নিস্ফলা গৃহ : নাসিমা হক মুক্তা

নিস্ফলা গৃহ : নাসিমা হক মুক্তা

দুঃখবিলাসী যৌবনের ইচ্ছেগুলো বির্বণ বিকেলের গায়ে ঝরে পড়ছে - জননীর অশ্রুবিন্দুতে। যেদিন সুখে ঘেমে ছিল ঘর সেদিন বৃক্ষের গায়ে জেগে ছিল চর। তখন থেকে নিভৃতে ওষ্ঠ শুষে ধ্যান করি - নিস্ফলা গৃহে যদি তোমার ঝর্ণা বেয়ে রক্তপাত নামে বরফগলা পানির ভেতরে কেবল তোমাকে জাগবো আবার।
পারভীন লিয়া’র দুটি কবিতা : # মুখোশ পরা মানুষ, # দহন ব্যাথায় তুমি

পারভীন লিয়া’র দুটি কবিতা : # মুখোশ পরা মানুষ, # দহন ব্যাথায় তুমি

------------------------- মুখোশ পরা মানুষ -------------------------- মাথায় তুমি বসে আছো চিন্তা শক্তির শত্রু হয়ে, ভাবনা গুলো চিবিয়ে খেলো-- মুখোশ পরা মানুষ যত। ভালো লাগার অলস সময় আসল নকল চিনতে থাকে, চেনা জানার পৃথিবীতে-- নষ্ট মানুষ রাস্তা মাপে। ঘুণ ধরেছে সমাজটাতে সংসার ভুলে ভাঙ্গতে থাকে, ভালবাসার রঙিন ঘরে-- অভিনয়ের গোলক ধাঁ ধাঁ। আমি তুমি নতুন হয়ে ঘুরতে থাকি ঘুর্ণিপাকে, অবুঝ মনে হাজার কথা-- জমতে থাকে দিনে রাতে। হৃদয় মাঝে সবুজ শিশু লতার মতো বাড়তে থাকে, ভালবাসার দাপট দেখায়-- সুখগুলো সব তুলে রাখি। মনের দামে মনকে চিনি চেনা জানার অভিজ্ঞতায়, দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখি-- স্বপ্নের সাথেই মাখামাখি। তুমি আমার অন্য ভাষা শিখতে গিয়ে যায় যে বেলা, সুখে দুখের অন্য মানুষ-- অন্য চাওয়ার উৎসব মেলা। ----------------------------------------- দহন ব্যাথায় তুমি -------০---
নারীর প্রেম : পারভীন লিয়া

নারীর প্রেম : পারভীন লিয়া

  নারীর কাছেই শিখেছো প্রেম শিখেছো ভালবাসা, নারীর কাছেই পেয়েছো সুখ-- এই নারীর কাছেই আশা। নারীই তোমায় যত্ন করে--- করে সর্ব চাওয়া পূরণ, নারীর মাঝেই সুখ খোঁজ তুমি নারীর মাঝেই হাসো। এই নারী আর সেই নারী নয় নারীকেই ভালবাসো--- অবহেলা আর অপমান করে নারীর মাঝেই বাঁচো। নারী তোমায় জন্ম দিলো ভীষন কষ্ট পেয়ে,আঁচল দিয়ে ঢেকে নিলো, আদর শাষনে বড় হলে তুমি এই নারীর অবদানেই। নারীই তোমার আদরের বোন, নারীই, ভাগ্নি, ভাস্তি, এই নারীই তোমার মা,খালা হয় নারীই ফুফু, চাচী। নারী শুধুই অবহেলা নয় ভালবাসার জন্য, বোঝলে ভালো না বোঝলে অন্য পথে চলো, নারীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নতুন কথা বলো। পুরুষ তুমি নারী ছাড়া অসম্পু্র্ণ এক শূণ্য অনাথ জাতি, তোমার চোখের স্বপ্ন পুরণে-- জ্বালাও নারীর চোখেই বাতি।।
পরম বন্ধু : বিজয় দে

পরম বন্ধু : বিজয় দে

মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার যেমন চলার কথা তেমনি চলছিল। বাবা বিদেশে মোটামুটি সংসার চলার মত চাকুরী করতো। তাই সংসারের পরিচালনা দায়িত্ব ছিল মায়ের উপরই। সব সময় যে ভাল যাবে তাও কিন্তু নয়। কয়েকমাস ধরে পরিবারের আর্থিক অবস্থা বলতে গেলে প্রচন্ড খারাপ। শখ ছিল ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবে। সরকারীতে পড়তেও কপাল লাগে। সব কপালের দোষ দিলেও হয়না। যাক সেই কথা। ছেলেকে শখ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে দিল। প্রতি সেমিস্টারে মোটা অংকের বেতন দিতে কোন সমস্যা হতনা আগে। সেমিস্টার টাকা দেওয়ার সময় হয়েছে। কিন্তু এদিকে মা বাবার সেটা মনে নেই। কিভাবে মনে থাকবে এ অভাবে। আর ছেলে বললে তো তাদের স্মরণ হবে তাই না। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোটিশ দিল বেতন দেওয়ার। কিন্তু পরিবারের এ অবস্থা দেখে সে কিছু বলেনি। ভাবছিল আরো কিছুদিন যাক তবেই বলবে। এভাবে অনেকদিন চলে যায়। আর এদিকে বেতন জমা দেওয়ার নিদির্ষ্ট সময় শেষ হয়ে গেছে
অনুগল্প  #  অস্থির চোখে চেয়ে দেখি তোমার শহর  : পারভীন লিয়া

অনুগল্প # অস্থির চোখে চেয়ে দেখি তোমার শহর : পারভীন লিয়া

---------০------- এতটা বাড়াবাড়ি বিরক্তিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে যদি বোঝতে পারতাম, তাহলে তোমার দেশে নিরবে হাসি মুখে চলে আসতাম একটা প্লেনের টিকেট কেটে। অন্তত একে অপরের আত্তার মাঝে নির্বিগ্নে আনন্দের আয়োজনে বেঁচে থাকার খেলা করতে পারতাম। নিষ্ঠুর ভয়াবহতায় আজকাল ভয় লাগছে আমার মানুষের জন্য, প্রিয় আপনদের জন্য। এখন আর মানুষ মানষের জন্য কথাটি খুব বেশি কাজে আসে না কারণ ছোঁয়াচে মরণব্যাধি জানো তুমি। বিষন্ন বাতাসে, অন্ধকার সাদা কালো পৃথিবীতে এখন লাশের মিছিলে কত অচেনা মুখ তিন টুকরো সাদা কাপড়ে দাফন হয়ে যাচ্ছে ঐ মাটির কবরে নির্দয়ে। রাতের অন্ধকার শুধু এখন রাতেই সীমাবদ্ধতায় নেই। বাহিরের আলোয় কিবা আসে যায়, যেখানে আবদ্ধ জীবন বোবা তিমিরের গর্ভে। ফিরে এসো না এখানে। কোন রকম বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কান্না শুনতে পারবেনা তুমি। চারিদিকে অসহায় মানুষ পাগলের মতো অনিশ্চিত সামনের দিনগুলোর কথাও এখন ভাবতে পা
মানচিত্রের মুখ : মাশরুরা লাকী

মানচিত্রের মুখ : মাশরুরা লাকী

আমার মায়ের হাত শক্ত মুষ্টিতে বিপ্লবী জননী 'আনা ফ্রাংক' এর প্রতিলিপি। সোনালী ধানের মৌতাত গন্ধ বুকে পালতোলা লাটিমের অবিরাম ঝড় মধ্যরাতের মদির চোখ সাদা বক পক্ষির ঢুলুঢুলু ঘুম মায়ের জমানো পদ্মা কালো চুলে নাটাই জড়ানো সুখ নিটোল মানচিত্রের মুখ। আমার মায়ের দুচোখ মঞ্চে জেগে ওঠে সোনালু শস্যক্ষেত রুপালী ইলিশ্ ঝাঁক বিশ্ব কাঁপানো মমতায় মাখা সহস্র মাইল বাঁক সবুজ আঁচলে কোমল ষোড়শী রূপ আমার মা সে- পৃথিবীর পথে স্নেহের শীতল বুক আমার মা'ই সরোবরে থাকা মানচিত্রের কালজয়ী এক মুখ।।
সন্ধ্যার ডানায় চলে যায় হাটুরেরা : ফয়েজ উল্যাহ মাহমুদ

সন্ধ্যার ডানায় চলে যায় হাটুরেরা : ফয়েজ উল্যাহ মাহমুদ

সময়ের বুকে পদাঘাতে চলে যায় টাট্টুঘোড়া মাটির বুকে ধূলো উড়িয়ে যায় হাটুরের দল- হৈ চৈ করে এগোয়, পৃথিবীর ওপারে নতুন অব্দ, কেউ শুনে না, আমি কেবল-ই শুনতে পাই শব্দ! জানলায় উঁকি দিয়ে দেখি, কে চলে যায় কিছুই দেখি না, দেখি শুধু ধু ধু প্রান্তর, তবে আমার শোনা কী নিছক অবান্তর? আমি কেবল-ই শব্দ শুনি পায়ের আমি কেবল-ই শব্দ শুনি ডাকের, কে যেন ডাকে কিসের যেন ডাকে ডাক শুনি সূর্যাস্তের শব্দ শুনি সন্ধ্যার ডানায় হাট শেষে হাটুরেরা চলে যায় নিভৃতে অজানায়। আমি কেবল শব্দ শুনি... পথিকের পায়ের শব্দ, জুতোর শব্দ, অশ্বের খুরের শব্দ, পাখির ডানার শব্দ, শুকনো পাতার মড়মড় শব্দ। আমি জানলায় উঁকি দিয়ে দেখি কে যায়, কি যায়- কাউকে দেখিনা, কিছুই দেখি না, তবে কি- বেলাশেষে হাঁটুরেরা লুকিয়ে চলে যায়? আমি কেবল-ই শব্দ শুনি, চলে যাচ্ছে কেউ ঘোড়ায়...
নেইতো আমার মা : নীলিমা শামীম

নেইতো আমার মা : নীলিমা শামীম

নেই যে সেই চোখের তারা শুন্য মরুভূমি মাগো তোমায় স্মরণ করিয়ে অশ্রু মুছি আমি। চোখের দেখায় সবি সমান অসাধারণ ছিলে তুমি চারিপাশে বিষন্নতায় ভরা শূন্যতা পাই আমি।। মাগো আমার প্রাণপাখিটা শুধুই নড়ে-চড়ে আাঁচল ভরা সুখের লেবাস স্নেহমমতা সে নাই রে। আদর সোহাগ মায়া ভরা কে আর দিতে পারবে? মায়াভরা কন্ঠের প্রতিধ্বনিতে আগলে বুকে রাখবে? জীবদ্দশায় ভাবিনি কভু চরণ ধুঁয়ে রাখি, তাহ-লে কি মাগো এখন কান্না চোখে থাকি? চলে যাবার ক্ষনেও মাগো বুঝতে পারিনি যে, আসি আসি করেই সেদিন ফাঁকি দিলেন মা যে,,।। দিবস টিবস ফালতু কথা তুমি সকল সেরা, কবিতা লেখার জন্য মা-গো কাগজ পত্র ছেড়া। রীতি নিয়ম মেনেই করলে আমাদের পালন ভালোয় এখন তুমি আকাশ ভেলায় আমরা জমিন ধুলোয়।