Monday, September 24Welcome khabarica24 Online

হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান খালেদার

ঢাকা : হরতাল প্রত্যাহার করে আলোচনা বসতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি  গণদাবিতে পরিণত হয়েছে । এর প্রতি যদি আপনি নীতিগতভাবে সম্মত হন তাতে করে হরতাল অবরোধ তুলে দিয়ে আলোচনায় বসতে রাজী আছি।

চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব জানান, কর্মসূচি প্রত্যাহার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে বলেন ,অনেক দেরি করে ফেলেছেন, সময় মত ফোন করলে ভাবা যেত। তাই হরতাল বহাল থাকবে। হরতাল কর্মসুচি শেষ হলে যেকোনো সময় আলোচনার প্রস্তাব দিলে আলোচনার জন্য প্রস্তত আছি।

প্রধানমন্ত্রী হরতাল স্থগিত করে দিয়ে আলোচনায় বসতে চাইলে খালেদা জিয়া জনান, এটি কেবল বিএনপির নয় ১৮ দলের পূর্বঘোষিত কর্মসুচি। তাছাড়া আপনার পুলিশ বাহিনী যেভাবে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের তারা করে যাচ্ছেন। এই মূহুর্তে  ১৮ দলের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার সুযোগ নেই। কর্মসূচি প্রত্যাহার করা আমার একার পক্ষে সম্ভব হবে না।

আমি আমার বক্তব্যে পরিস্কার করে বলেছি আলোচনা ও কর্মসূচি একসাথে চলতে পারে। তারপরও আপনি যদি কালকে ফোন করতেন তাহলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা সম্ভব হতো।

মারুফ কামাল খান বলেন, এ সময় প্রধানমন্ত্রী অতীতের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এসবের উত্তর দিয়ে খালেদা জিয়া একথা বার বার জোর দিয়ে বলেছেন, আমরা অতীতের ভুল বোঝাবুঝি ও তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাই। অতীত নিয়ে থাকলে আমরা সামনে এগুতে পারবো না। বর্তমানের দাবি হচ্ছে জনগণের সমস্যা নিরসন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবং সেই আহ্বান আমি ইতোমধ্যেই আপনাকে জানিয়েছি। তাই আসুন অতীত তিক্ততা বিতর্ক বাদ দিয়ে জাতির আশা আকাঙ্কা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বার বার টেলিফোন করে পাননি এর উত্তরে স্পস্ট ভাষায় খালেদা জিয়া বলেছেন, রেড টেলিফোন বিকল হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অভিযোগ জানানোর পরেও ঠিক করা হয়নি। মৃত টেলিফোনে চেষ্টা করে পাবেন কিভাবে।

তিনি বলেন, আপনি যদি আন্তরিকভাবে কথা বলতে চাইতেন দিনে বা গতকালই অনেক মাধ্যমে তা সম্ভব ছিলো। এটা ঠিক হয়নি। ফোন করার আগে আপনার স্টাফরা এসে ফোন সচল ছিলো কি না তা দেখে যেতে পারতো।

তিনি বলেন, টেলিফোন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, টেলিফোন সচল আছে। তিনি অসত্য কথা বলেছেন। একথা বলে তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। আমি দেখতে চাই আপনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিরোধী দল খুন খারাবির রাজনীতি করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উত্তরে অতীতের নজীর তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, এগুলো আমরাও বলতে পারি। আমরা আগে আপনাকে অনেক প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আলোচনার জন্য আপনি কখনোই আন্তরিক ছিলেন না। অতীতে জামায়াতের দেওয়া ফর্মূলা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাবেন না বলে আন্দোলন করেছেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আপনি ও আমি দুটি প্রস্তাব দিয়েছি। সে দুটিকে সমন্বয় করে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার জায়গায় পৌছাতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিলে খালেদা জিয়া বলেন, আপনার প্রস্তাব কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া দরকার। একদলীয় দ্বিদলীয় বহুদলীয় সরকারের অধীনে নয়।  না হলে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।  আশা করি আপনি এ বিষয়ে সচেষ্ট হবেন।

মারুফ কামাল জানান, আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে ফোন দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনার একটা শুভ সূচনা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা চলছে। আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী আলোচনার পথ থেকে সরে যাবেন না, বিরোধী দলীয় নেতা এটাই প্রত্যাশা করেন।এদিকে ১৮ দলের সাথে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফ কামাল খান এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেন নি।

Leave a Reply