বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সেই তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ

4_5016_5222

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পুলিশের মহাপরিদর্শককে অবিলম্বে এ আদেশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো র্যাবের ওই তিন কর্মকর্তা হলেন, র্যাব-১১ এর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা। এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাইকোর্ট থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলেই র্যাবের সেই সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হবে। তারা নজরদারির মধেই রয়েছেন। যে কোনো সময়ই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুনেছি হাইকোর্ট তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নির্দেশনায় কী কী রয়েছে সেগুলো কাগজপত্র পেলেই বোঝা যাবে। তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশের কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পেঁৗছায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। রিট শুনানি শেষে আদালত বলেছেন, দণ্ডবিধি বা অন্য কোনো বিশেষ আইনে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে ৫৪ ধারায় ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হবে। এর আগে সকালে আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ওই সাত খুনের ঘটনায় স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে তার জামাতা বিজয় কুমার পালসহ তিনজন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটের অন্য দুই বাদী হলেন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর নির্বাহী সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন। পরে এই রিটের ওপরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রিটের পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার। শুনানির একপর্যায়ে আদালতের আদেশে আবেদনকারী পক্ষ আবেদনটির কিছু অংশ সংশোধন করে। শুনানি শেষে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশপাশি রুলও জারি করেন। তবে স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশনের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। রুলে পুলিশ ও র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাগত কার্যক্রম সম্পর্কিত আইন সংশোধন ও নবায়ন করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আইনের ঘাটতি সংশোধনে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চেয়েছেন আদালত। স্বরাষ্ট্র, আইন ও জনপ্রশাসন সচিব এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে ৫ মে এ ঘটনায় বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। এদিকে মির্জা হোসেইন হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছেন, এ রুলের পরবর্তী শুনানি বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
গ্রেফতারে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ : হাইকোর্টের নির্দেশনা আসার পরপরই র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ। অভিযানে কোন কোন কর্মকর্তা থাকবেন, কয়টি টিম অভিযানে যাবে ইতিমধ্যে সেই ছকও অাঁকা হয়েছে। প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার গোলাম মুহিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, গণমাধ্যমে শুনেছি হাইকোর্টের নির্দেশনার কথা। তবে আদালত তার নির্দেশনায় কী কী বিষয় উল্লেখ করেছেন তা আগে দেখতে হবে। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, র্যাবের সেই কর্মকর্তাদের ওপর আমরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। তবে আমরা কোনো সংস্থার বিপক্ষে যেতে চাচ্ছি না। তদন্তের স্বার্থে যে কাউকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তবে প্রস্তুতির বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। প্রসঙ্গত, ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করে নজরুলের পরিবার। পরে নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র্যাবের মাধ্যমে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন। এ অভিযোগের পর র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মাহমুদ, আরিফ হোসেন এবং এম এম রানাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক আগাম অবসরে পাঠানো হয়।