শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সিরিয়ায় ১০ হাজার শিশুর প্রাণহানি : জাতিসংঘ

8_65855

 

সিরিয়ায় শিশুরা যে মানবেতর ও শোচনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন, জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা তার একটি পরিসংখ্যান প্রকাশের মধ্য দিয়ে সেখানকার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিরিয়ায় গুরুতর আইন লংঘনের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে কমপক্ষে ১০ হাজার শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের নির্বিচারে আটক এবং তারা যে অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছে, তাতে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নিরাপত্তা হেফাজতে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে, সরকারবিরোধী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঠেলে দেয়া হচ্ছে শিশুদের এবং একই সঙ্গে মানবঢাল হিসেবে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতিসংঘের নতুন এ রিপোর্টে প্রথমবারের মতো প্রায় ৩ বছর ধরে চলা সহিংস গৃহযুদ্ধে শিশুদের ওপর পড়া ভয়াবহ প্রভাবের বিষয়টিতে গুরুত্ব সহকারে আলোকপাত করা হয়েছে। এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি প্রতিবেদনটি।
জাতিসংঘের ‘চিল্ড্রেন অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ শাখার বিশেষ প্রতিনিধি লেইলা জেরোউগুই আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ রিপোর্টের সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা শিশুদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করছে না। মঙ্গলবার জাতিসংঘ এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ৩ বছর ধরে চলা সহিংসতায় সরকারি বাহিনী বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুদের ব্যবহার করেছে। শিশুদের নিয়োগের বিষয়ে সরকারি বাহিনী জাতিসংঘকে কোনো রিপোর্ট দাখিল করেনি। কিন্তু সৈন্য ও সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ১৮ বছরের নিচে বয়সী ছেলেদের আটক করে যুদ্ধে ব্যবহার করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, সিরিয়া সরকার শিশুদের নির্বিচারে আটক, নির্যাতন ও বিরোধীদের সঙ্গে লড়াইয়ে শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য দায়ী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জাতিসংঘ তদন্ত দলকে জানিয়েছেন, আটককৃত অধিকাংশ শিশুরই বয়স ১১ বছরের মতো। ২০১১ সালের এক ঘটনায় সরকারি বাহিনী বিরোধীদের আÍসমর্পণে কমপক্ষে ৮ শিশুকে ব্যবহার করেছিল।
এদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইএ’র পরিচালক জন ব্রেনান সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার বহু নাগরিক সিরিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং তারা যে কোনো সময় আমেরিকার ভেতরে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, এসব মার্কিন নাগরিক আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ করছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটিতে শুনানির সময় তিনি এ তথ্য জানান। জন ব্রেনান আরও বলেন, সিরিয়া এবং ইরাকে দিন দিন গেরিলা গ্র“প বেড়েই চলেছে এবং তারা মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে পারে।তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়ার আল কায়দা গোষ্ঠী বিভিন্ন ক্যাম্পে বিদেশী গেরিলাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ওদিকে সিরিয়া ও ইরাকে আল কায়দা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সংগঠনগুলো তাদের অভিযান ও তৎপরতায় নারী সৈনিকদের নামাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তারা নারী সৈনিকদের নিয়ে ব্রিগেড গঠন করেছে। সোমবার এক সংবাদে সৌদি গ্যাজেট জানায়, সিরিয়ার রাকাহ শহরেই এই নারী সৈনিকদের প্রথম পদার্পণ হবে। অন্যান্য আরব পত্রিকাগুলোও স্থানীয় পত্রিকা আশরাক আল-আওসাতের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, সিরিয়া ও বাগদাদে যুদ্ধরত আল কায়দা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হয়ে কাজ করবেন এসব নারীযোদ্ধা।
নারী ব্যাটেলিয়নগুলোর নাম দেয়া হয়েছে ‘আল-খানসা’ এবং ‘উম আল-রাইয়ান’।