শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সংবিধান সংশোধন বিলে সমর্থন দেবে বিরোধী দল

image_126745.sangsod

বহুল আলোচিত ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ পাসে সমর্থন দিবে চলতি সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। বাহাত্তর সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের মাধ্যমে বিচারকরা আরো সুরক্ষিত হবে বলে বিরোধীদলীয় সদস্যরা মনে করছেন। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর বিরোধী দল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিচারপতিদের অপসারণে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলের বিরোধিতার সিদ্ধান্ত নিলেও সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে জাতীয় পার্টি। গত ৩১ আগস্ট জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে বিলের বিরোধিতার কথা জানানো হয়। কিন্তু গত রবিবার সংসদে বিলটি উত্থাপনকালে কোনো সংসদ সদস্য বিরোধিতা করেননি। বরং আজ মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে কমিটির সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিল পাসে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের ধারণা ছিল সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হবে। এখন ওই ভুল ভেঙেছে। বরং সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকরা আরো সুরক্ষিত হবেন। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের রাষ্ট্রপতির কাছেই থাকবে। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে সব বিষয় পরিস্কার হয়েছে। অথচ সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো সংশোধনী নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করছে। বিলটি নিয়ে জাতীয় পার্টির অবস্থান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে কমিটির বৈঠক শেষে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সংশোধনী নিয়ে সরকারি দলের মনোভাবের কথা তাকে অবগত করেন। একই সঙ্গে বিলের ওপর আলোচনার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন। এরপর বিরোধী দলীয় নেতা বিলে তাদের সমর্থন দেওয়ার কথা জানান।
উল্লেখ্য, বিলটি পাসের মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের যে বিধান ছিল, সেটিই আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। অর্থাত্ প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদে প্রস্তাবক্রমে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে বিচারককে অপসারিত করা যাবে। একই সঙ্গে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে প্রণীত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক অপসারণের নিয়মটি বিলুপ্ত হবে।