Sunday, February 23Welcome khabarica24 Online

লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা রহিম

ইমাম হোসেন ঃ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এই মাসেই এসেছিল বিজয়। প্রবীণরা তো বটেই তরুণ প্রজন্মের কাছে তাই এই মাসের গুরুত্ব অনেক। এই মাসে তাই অনেকে পেশা পরিবর্তন করেন। পতাকা বিক্রি করে সংসার চালায়। এদের একজন আব্দুর রহিম। বয়স প্রায় ৩০ বছর। বিজয়ের মাসে তার পরিচয় ভিন্ন। এ মাসে তিনি লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা। সারা বছর তিনি নানা রকম পণ্য ফেরি করে বিক্রি করলেও ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে তিনি ফেরি করেন পতাকা। এই কাজে তিনি নাকি অন্যরকম এক তৃপ্তি পান। বিজয়ের স্মৃতি বিজড়িত মাস ডিসেম্বর। এই বিজয় ছিনিয়ে আনতে ঝরেছে লাখো শহীদের রক্ত। তাই ডিসেম্বর এলেই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু হয় জাতীয় পতাকা বিক্রির ধুম। মীরসরাই উপজেলায় রাস্তায় রাস্তায় বাঁশের সঙ্গে ছোট-বড় পতাকা বেঁধে বিক্রি করছেন মৌসুমী বিক্রেতারা। আর বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পতাকা কিনছেন অনেকেই। এ ছাড়া এই মাসের ৮ তারিখে মীরসরাই হানাদারমুক্ত হয়েছিলো।
উপজেলার বড়তাকিয়া মোড়ের পতাকা বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, তিনি সারা বছর নানা রকম পণ্য ফেরি করে বিক্রি করলেও ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে ফেরি করে পতাকা বিক্রি করেন। রাতে পতাকা কিনে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে পতাকা বিক্রি করেন। তার কাছে পাওয়া যাচ্ছে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৩শ’ টাকার পতাকা। তিনি আরও জানান, এই মৌসুমী ব্যবসায় ভালই লাভ। এ ছাড়া তিনি এক অন্য রকম তৃপ্তি পান বলে এই কাজ করেন দুই মৌসুমে।
উপজেলার মিঠাছড়া বাজারে পতাকা বিক্রি করা ২২ বছর বয়সী কামরুল জানান, আগে তিনি হোটেলে কাজ করতেন। ডিসেম্বরে বেশি লাভের আশায় এ ব্যবসায় নেমেছেন। তিনি পতাকা বিক্রি করেন বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের সামনে। তিনি আরও জানান, স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাসে পতাকা বিক্রি করে বেশি আনন্দ পান।
বিজয়ের এ মাসে যদি প্রত্যেকের হাতে একটি করে লাল-সবুজের পতাকা তুলে দিতে আর মাথায় একটি করে জাতীয় পতাকা খচিত ব্যাজ বেঁধে দিতে পারতেন তাহলে পতাকা বিক্রিতে তার সার্থকতা আসত।
কামরুলের সঙ্গে কথা বলার সময় মীরসরাই কলেজের শিক্ষার্থী প্রিয়া ও তাসলিমা কিনলেন দুটি পতাকা।  তারা জানালেন, একটি বিজয় দিবসের জন্যে। অন্যটি বাসার ছাদে ওড়ানোর জন্য।