শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

লতিফ সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে

image_159675.latif
সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বুকে ব্যথা দেখা দেওয়ায় আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতাল পরিচালক আব্দুল মজিদ ভূইয়া। তিনি জানান, লতিফ সিদ্দিকীর পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে। রিপোর্ট এলেই জানা যাবে তাঁর সমস্যা কী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের একটি মামলায় তিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামায়াত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলের সমালোচনা করে সারা দেশের মানুষের প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তাঁর এসব মন্তব্য নিয়ে সারা দেশে শুরু হয় তোলপাড়। ফাঁসির দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন অব্যাহত থাকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের ১৮ জেলায় ২২টি মামলা হয়। প্রত্যেকটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।ওই বক্তব্যের পর গত ১২ অক্টোবর আমেরিকায় থাকাকালেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই দিনই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়। এরপর তিনি আমেরিকা থেকে ভারতে আসেন। কলকাতায় কিছুদিন অবস্থানের পর নাটকীয়ভাবে ২৩ নভেম্বর রাত ৮টা ২১ মিনিটে তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে ভিআইপি লাউঞ্জ দোলনচাঁপায় প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। এ সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো নির্দেশনা না থাকায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে আটক না করে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। এরপর ২৫ নভেম্বর তিনি ধানমন্ডি থানায় আত্মসমার্পণ করেন। থানা থেকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন। সেখান থেকে শনিবার তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়।