বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

লং মার্চের কারনে পানি তিস্তায় ছেড়েছে ভারত: ফখরুল

fakhrul_91231

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইলসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির লংমার্চের কারনে ভারত তিস্তায় কিছুটা পানি ছেড়েছে।এটা লংমার্চের প্রাথমিক সাফল্য। আমরা সাময়িক নয়, পুরোপুরি সমাধান চাই।মঙ্গলবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জে এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এজন্য তারা তিস্তাসহ কোন নদীর পানি আনতে পারবে না। এজন্য অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।ঢাকায় শাহজাহাল বিমান বন্দর থেকে সকাল ৯টায় রংপুরের উদ্দেশ্যে বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলের বাইপাস মোড়ে তিস্তা অভিমুখে লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল।এ সমাবেশে তিনি বলেন, তিস্তার পানি কারো দয়া নয়, এটা বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষের অধিকার। বিএনপির লংমার্চ ভারত বিরোধিতার জন্য নয়, দেশ ও জনগণের জীবন বাঁচাতে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তিস্তার পানির এই ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার।এর আগে লংমার্চের যাত্রার প্রাক্কালে বিমানবন্দর সড়কের গোল চত্বর এলাকায় এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।মির্জা ফখরুল বলেন, যে সরকার গণতান্ত্রিক নন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি তারা দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা কীভাবে করবে। তাদের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় সম্ভব নয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জনগণের অস্তিত্ব রক্ষায় তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের দাবি। ভারত বিরোধিতা বা সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের এ লংমার্চ বা আন্দোলন নয়। তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা দিতে এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে তিনি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় লংমার্চে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন ফখরুল।টাঙ্গাইলের বাইপাস মোড়ে বক্তব্য কালে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ শেষে সরকার পতন ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করা হবে। এ জন্য নেতা কর্মীদের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান তিনি। লংমার্চে গাজীপুরের কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের বাইপাস মোড় অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে তৃতীয়দফা সমাবেশ করে। এ সমাবেশে জেলা বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ লংমার্চে শামিল হন। বিকেল চারটায় লংমার্চ বগুড়ার মাটিঢালী মোড়ে পৌছে সমাবেশ করে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে পথসভা করে বিএনপি।লংমার্চ রাতে রংপুরে অবস্থান করবে। বুধবার সকাল ৯টায় ফের লংমার্চ পথসভা দিয়ে যাত্রা শুরু করবে। তিস্তা ব্যারেজের সামনে ডালিয়া পয়েন্টে বেলা ১১টায় সমাবেশ করার মাধ্যমে লংমার্চের কর্মসূচি শেষ হবে।বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত একতরফাভাবে তিস্তা নদীর উজানে ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ খাল ও চ্যানেলের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এটা অন্যায়। এই অন্যায়েরর প্রতিবাদে তাদের লংমার্চ।