রবিবার, ৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রানা প্লাজা ট্রাজেডির এক বছর : স্বজনহারাদের কান্না

rana-flaza-trazedi_92011

স্বজনহারাদের চাপা কান্না আর আহত শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে নিদারুণ দুশ্চিন্তার মধ্যেই পার হলো রানা প্লাজা ট্রাজেডির একটি বছর। গত বছরের ২৪ এপ্রিল পাঁচটি পোশাক কারখানায় কর্মরত প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের ওপর ভয়াল মৃত্যুর অভিশাপ নিয়ে ধসে পড়ে সাভারের এই আটতলা ভবনটি। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ১১৩৪ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।
২৪ এপ্রিলকে শ্রমিক নিরাপত্তা ও শোক দিবস ঘোষণা করে ওইদিন সব কারখানা বন্ধ রাখা এবং রানা প্লাজা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সবার শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
এদিকে রানা প্লাজার ঘটনায় তিন মামলায় তদন্ত কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে সিআইডি। চলছে চার্জশিট লেখার কাজ। শিগগিরই আদালতে এসব মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলায় আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৪০ জনের নাম।
এখনও হারানো প্রিয়জনকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। আজ বৃহস্পতিবার সকালের প্রথম প্রহর থেকে দেখা গেছে সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা ভবনের সামনে নিখোঁজদের স্বজনরা ছবি হাতে ও বুকে সেঁটে এখন খুজে ফিরছে তাদের প্রিয়জনদের। এসময় তাদের কান্না ও আহাজারিতে সাভারের আকাশ-বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও অনেক শ্রমিকের হাড় ও খুলি উদ্ধার হওয়ায় আবারও উদ্ধার অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানাচ্ছে শ্রমিক ফেডারেশনের কয়েকটি সংগঠন। তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা সঠিকভাবে বণ্টন হচ্ছে না। নিহত ও আহত শ্রমিকদের কথা সবাই বলছে, সাহায্য দিচ্ছে। কিন্তু নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সহায়তায় এখনও কেউ এগিয়ে আসেনি, কেউ তাদের খোঁজও নেয় না। এছাড়া রানা প্লাজার চাকরি হারানো এক হাজার ৫৮ জন শ্রমিকের এখনও কর্মসংস্থান হয়নি।
রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিক-মালিকরা। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা। রানা প্লাজার ভবনধসের এক বছর পূর্তিতে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। যেসব শ্রমিক জীবিত আছেন, বিশেষ করে যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের পুনর্বাসন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে এই সংগঠনটি মনে করছে। বিজিএমইএ ঘোষণা করেছে, রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের একটি সন্তানও যেন শিক্ষা থেকে এবং একজন শ্রমিকও যেন চাকরি থেকে বঞ্চিত না হন, সে দায়িত্ব তারা নেবেন। নিহত শ্রমিকদের ৩০০ সন্তানের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আওতায় গঠিত রানা প্লাজা ডোনার ট্রাস্ট ফান্ডে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে চার কোটি ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত দেড় কোটি ডলার পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
২৪ এপ্রিলকে শ্রমিক নিরাপত্তা ও শোক দিবস ঘোষণা করে ওই দিন সব কারখানা বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে। এছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত রানা প্লাজার স্থানে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকা সংবলিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রানা প্লাজার মালিকদের সব সম্পদ বিক্রি করে সেই অর্থ আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারকে পুনর্বাসনে ব্যয় করার দাবি উঠেছে।
১০৫ জনের পরিচয় এখনও মেলেনি। সবাই সাভারের রানা প্লাজা ধসের শিকার। আর এই ১০৫ লাশের পরিচয় শনাক্ত না করেই শেষ করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষা।
গত এক বছরে অশনাক্ত ৩২২ জনের মধ্যে মোট ২০৬টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ১১টি লাশের ক্ষেত্রে দুজনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল সম্প্রতি শ্রম মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রানা প্লাজা ভবন ধসে মৃত অশনাক্ত ব্যক্তিদের ডিএনএ আর পরীক্ষা করা হবে না। তবে ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনও ডিএনএ পরীক্ষায় অংশ না নেয়া পোশাককর্মীর পরিবারের সদস্যদের গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আহ্বান জানানো যেতে পারে। ৩০ এপ্রিল থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৫৪০টি পরিবারের ৫৪৮ জন সদস্য তাদের রক্তের নমুনা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি দাবি করেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিক ১৪৬ জন। তাদের দাবি হাইকোর্ট ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রানা প্লাজার ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, তা অসম্পূর্ণ। বিভিন্ন তালিকা যাচাই এবং নিজেরা খোঁজ নিয়ে ১৪৬ জনের নামের তালিকা করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।
কাজে যোগ দিতে পারেননি ১০৫৮ জন শ্রমিক : রানা প্লাজা ধসের এক বছর পরও আহত এক হাজার ৫৮ জন শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি। আহত এক হাজার ৪৩৬ শ্রমিক এবং নিহত ৭৮৬ জনের পরিবারসহ মোট দুই হাজার ২২২ জন শ্রমিকের ওপর এ মাসের শুরুতে একটি জরিপ চালায় বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। জরিপ প্রতিবেদনটি গত রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে প্রকাশ করা হয়।
জরিপে অংশ নেয়া এক হাজার ৪৩৬ জন আহত শ্রমিকের ৩৭৮ জন কাজে যোগ দিয়েছেন। ১৮২ জন আবারও পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন ৫৯ জন। অনিয়মিত দিনমজুর হয়েছেন ৪৭ জন। বাকিরা নানা কাজে যুক্ত হয়েছেন।
জরিপ অনুযায়ী, আহত ৫৮ শতাংশ শ্রমিক ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি নেই। আর ৯২ দশমিক ৮ শতাংশ শ্রমিকের কোনো জমানো টাকাই (সঞ্চয়) নেই।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ভবনধসের ঘটনার পরদিন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। একই দিন সাভার মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ওয়ালী আশরাফ আরও একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় সিআইডিকে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে আরও একটি মামলা করেন নিহত পোশাক শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার। আদালত এই মামলাটিও তদন্তের জন্য আদেশ দেন সিআইডিকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কাজ প্রায় শেষ। আশা করছি শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব। এজহার নামীয় ১১ জনসহ মোট ৪০ জন আসামি থাকছে। বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। চার্জশিটে সরকারি হিসাবে ১১৩৪ জনকে নিহত দেখানো হয়েছে। তাদের আত্মীয়স্বজনদেরও মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত চলাকালে ২১ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- ভবনের মালিক সোহেল রানা, রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে কলু খালেক, সাভার পৌরসভার মেয়র রেফাতউল্লাহ, ভাড়াটিয়া নিউ ওয়েব বটমস ও নিউ ওয়েব স্টাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুল সামাদ আদনান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান তাপস, ফ্যান্টমের পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও ইথার টেক্স লিমিটেডের আনিসুর রহমান, সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ আলী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অপর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতেমাম হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়া, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান রাসেল, ভুয়া আইটি ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার কামাল, পালানোর পর রানার আশ্রয়দাতা অনিল, শাহ আলম ও হাসান, স্থানীয় প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক ও রানার ৪ সহযোগী মনোয়ার, নজরুল, রাকিবুল ও শফিকুল।
সিআইডির তথ্য মতে, রানা প্লাজা বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে তৈরির পর অবৈধভাবে কারখানা স্থাপন, ২০০৬ সালে ছয় অনুমোদনের পর বেআইনিভাবে নতুন ফাইল খুলে আরও চারতলা বাড়ানোর অনুমোদন, কারখানা অনুমোদনের জন্য ভুয়া নকশা দাখিল, অসাধু উপায়ে বিভিন্ন লাইসেন্স সংগ্রহ, বিধিবহির্ভূতভাবে জেনারেটর বসানো, ফাটল দেখার পর সিলগালা না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে মালিক-শ্রমিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে। তারা হলেন নিউ ওয়েব বটমস ও নিউ ওয়েব স্টাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুল সামাদ আদনান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, ফ্যান্টমের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, এবিএম সিদ্দিক, ফরিদউদ্দিন মিলাদ, নাজিম উদ্দিন, সুরাইয়া বেগম, এ আইয়ুব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, দেলোয়ার আহমেদ, জাফর আহমেদ, ইথার টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, এমডি জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিচালক মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান ও শফিকুল ইসলাম।
ভবন মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন নেয়া, নিুমানের পণ্য দিয়ে ভবন নির্মাণ করা, ফাটল দেখার পরও সিলগালা না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে প্ররোচনা দেয়া এবং প্রবেশে বাধ্য করা।
সাভারের সাবেক ইউএনও কবীর উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে মর্মান্তিক এই ট্রাজেডির নেপথ্য তার ব্যাপক অবহেলা ছিল। ভবনে ফাটল দেখার পরও স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে তিনি কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেননি।
অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণ ক্ষেত্রে তদারকি না করা এবং ফাটল জেনেও ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, পৌর মেয়র রেফাতউল্লাহ, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান, সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইয়াসমিন ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে।
অত্যন্ত নিুমানের ইট-সুরকি দিয়ে ভবন নির্মাণ করা, অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রকৌশলী সারোয়ার কামাল, কর্মচারী আতাউর রহমান, আবদুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, রেজাউল ইসলাম ও ঠিকাদার নান্টুর বিরুদ্ধে।ফাটল দেখার পরও কারখানা বন্ধ না করে শ্রমিকদের ভয়ভীতি চাকরিচ্যুতি ও বেতন না দেয়ার হুমকি দিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করায় কারখানার কর্মকর্তা বশীর আহমেদ, নয়ন মিয়া, আবদুল হামিদ, আবদুল মজিদ, ইউসুফ আলী ও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।ভুয়া নকশার ওপর ভিত্তি করে কারখানার অনুমোদন দেয়ায় শিল্প-সম্পর্ক প্রকল্প পরিচালক বেলায়েত হোসেন, ঢাকা বিভাগের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদফতরের সহকারী কারখানা পরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামান, কারখানা পরিদর্শক মোঃ ইউসুফ আলী, সহকারী প্রধান পরিদর্শক মাহমুদুল হক, উপ-প্রধান পরিদর্শক আমিনুল হক, যুগ্ম শ্রম পরিদর্শক জামশেদুর রহমান ও পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।ড্যাপের আওতাভুক্ত হওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত না করা এবং সময়মতো নজরদারি না করায় রাজউকের প্রধান ইমারত পরিদর্শক রাহেলা খাতুন ও ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেনকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ কর বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৫টি কারখানা খুলে জেনারেটর, ব্রয়লার, মেশিনারিজসহ ভারি যন্ত্রপাতি বসানো হয়। এতে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বারবার আলোচনায় আসার পরও তৎকালীন এমপি মুরাদ জংকে আসামি না করা প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ফলে মুরাদ জং বা অপর কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আসামি করা হচ্ছে না।এছাড়াও ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহিন শাহ পারভেজ ধামরাই থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেছিলেন। ইতিমধ্যে এ দুটি মামলায় রানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। রানা ও স্বজনদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে আলাদা অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।সিআরপিতে আহত ৯৭ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে : পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালরি এ টেইলর যুগান্তরকে জানিয়েছেন, রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের ৯৭ জনকে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সিআরপি কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সহায়তায় বিদেশ থেকে আসা অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রানা প্লাজা গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন। বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান এলেও তা কোথায়, কিভাবে যাচ্ছে, কাকে দেয়া হচ্ছে, এর কোনো হিসাব নেই। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব ও দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে বলে এই সংগঠনটি মনে করছে।অপরদিকে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ২১ জনের মধ্যে আটজন জামিনে বেরিয়ে গেছে। ওই ঘটনায় মোট মামলা হয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি ভবনধসের ঘটনায়। ভবনের অন্যতম মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে। হত্যার অভিযোগে একমাত্র মামলাটি করেছেন নিহত একজন শ্রমিকের স্ত্রী।

উৎস- যুগান্তর