বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রওশনকে ঘিরে নানামুখী তৎপরতা

rowson

 

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশনকে নিয়ে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলের নির্বাচিত এমপিরা দফায় দফায় তার সঙ্গে বৈঠক করছেন। সরকারে না বিরোধী দলে থাকবে জাতীয় পার্টি এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন নেতারা। তবে এ পর্যন্ত রওশন এরশাদ কোন সিদ্ধান্তই জানাননি। সূত্র বলছে, পার্টির চেয়ারম্যান এখনও তার অবস্থানে অনড় থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন রওশন। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এরশাদ তার অবস্থানে অনড় থাকলে সরকার বা বিরোধী দলে যোগ দেয়া কঠিন হবে তার পক্ষে। যদিও সরকারের তরফে রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য সমঝোতার মাধ্যমে জিতিয়ে আনা জাতীয় পার্টির একজন নেতা সার্বক্ষণিকভাবে রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নেতারা বাইরে বক্তব্য দিয়ে রওশন এরশাদকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন। আজ বিকাল ৪টায় রওশনের গুলশানের বাসায় সংসদীয় দলের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা ও দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয়ায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে শুরু হয় নাটকের প্রথম দৃশ্য। এরপর একের পর এক নাটকীয়তা। এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পর থেকে দলের সরকার সমর্থক বলে পরিচিত নেতারা প্রচার করে আসছিলেন রওশন এরশাদের নেতৃত্বে তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন। এতে এরশাদেরও সমর্থন আছে। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে গত ২রা জানুয়ারি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দলের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করলেও ওই অনুষ্ঠানে যাননি রওশন এরশাদ। এমনকি জাতীয় প্রচারমাধ্যমে ছয়টি দলের প্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেও জাতীয় পার্টির কেউ তাতে বক্তব্য রাখেননি। এতে নতুন প্রশ্ন দেখা দেয় রওশন এরশাদের অবস্থান নিয়ে। এ অবস্থায় নির্বাচনের পর গত দু’দিন ধরে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, আমরা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে সংসদে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এরশাদ সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার তো বিরোধী দলের নেতা হতে আপত্তিও থাকতে পারে। তাছাড়া ঐকমত্যের সরকারে বিরোধী দলের তেমন গুরুত্ব নেই। গতকাল দুপুর ২টার দিকে গুলশানে রওশন এরশাদের বাসভবনের নিচে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাজী ফিরোজ রশীদ এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি রওশন এরশাদের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠক করেন। তার আগে দুপুরে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়া উচিত। তবে আমরা সরকারে অথবা বিরোধী দলে থাকতে পারি। এরশাদ কবে, কখন সিএমএইচ থেকে ফিরবেন- এ প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে চিকিৎসকরা ভাল বলতে পারবেন। সূত্র বলছে, এরশাদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। রওশনও এর বাইরে নন। এ কারণে তিনি নীরব ছিলেন এবং আছেন। ইশতেহার পাঠের ওই অনুষ্ঠানে রওশন এরশাদ বা দলের মহাসচিব না থাকার পর এমনই আলোচনা ছিল সর্বত্র। ওই দিন সকালে ব্যারিস্টার মাহমুদ ইশতেহার ঘোষণার পর রাতে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে রওশন এরশাদ গণভবনে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রওশন এরশাদের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।

উৎস- মানবজমিন

Leave a Reply