Monday, June 18Welcome khabarica24 Online

মীরসরাইয়ে সরকারি হাসপাতালের রাস্তা সংকীর্ণ করে সীমানা প্রাচীরে এলাকাবাসীর বাধা : উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মীরসরাইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মধ্যে দ্বন্ধ যেন চরম আকার বিরাজ করছে। এলাকাবাসী তাই মন্থব্য করছে যখন হাপাতালের রাস্তা দখল করে কোন প্রকার ছাড় দিচ্ছে না পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। অথচ উপজেলা প্রশাসন ও সরকারি হাসপাতাল বলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে রাস্তা ছোট না করার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে ও কর্ণপাত না করায় গ্রামবাসি ও সাধারন মানুষ হাসপাতালে রোগী আনা নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশংকায় প্রতিবাদে ফেটে পড়ার উপক্রম । সকলে দলবেঁধে সংবাদকর্মীদের শরনাপন্ন হয় অবশেষে। গ্রামের সাধারন মানুষ জানায় যদি হাসপাতালের রাস্তা সংকীর্ণ করে ফেলা হয় তাহলে ওরা মানববন্ধন, অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাবে এবার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথা একমাত্র সরকারি হাসপাতালের প্রধান ফটক সহ দুপাশের রাস্তা সংকীর্ণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মানের চেষ্টার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে এলাকাবাসী এই বিষয়ে স্বাস্থ্য কমর্কর্তার কাছে হাসপাতালের প্রধান গেট থেকে পুরাতন ও নতুন মহাসড়কের দুদিকের রাস্তা প্রসস্থ রাখার দাবী পেশ করার পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রাচীর নির্মানকারী কর্তৃপক্ষের বরাবরে এই বিষয়ে পত্র প্রেরন করে। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ঠিকাদার দ্বারা সেখানে তবুও রাস্তা দখল করে কাজ করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে একদিকের কাজ সাময়িক স্থগিত রেখেছে ঠিকাদার। এই বিষয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা ও বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথা উক্ত মস্তাননগর হাসপাতাল গেট এলাকায় সম্প্রতি সৃষ্ট পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় এক পার্শ্বে সাময়িক স্থগিত রাখা নির্মানাধিন সীমানা প্রাচির এর অপর পার্শ্বে নির্মান কাজ করছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োজিত ঠিকাদার।
সেখানে উপজেলার হাসপাতালের মূল ফটকেই এই পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়টি উক্ত কার্যালয়টির চার পার্শ্বে এতো বছর সীমানা প্রাচীর ছিল না। তবে আরসিসি খুটি দ্বারা তার কাটা দেয়া ছিল। স্থানীয় প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্বামান (৭০) বলেন সম্প্রতি সীমানা প্রাচীর দেয়ার কাজ শুরু করা হলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন এর নির্দেশনা ও তত্বাবধানে উক্ত সীমানা প্রাচীর পূর্বের আরসিসি সীমানা পেরিয়ে হাসপাতাল সড়কের দিকে আরো অন্তঃত ৫ ফুট এগিয়ে চলাচলের পথ সহ বন্ধ করে প্রাচীর নির্মানের সিসি ঢালাই দেয়াকালে এলাকাবাসী এতে বাধা দেয়। এলাকাবাসীর বক্তব্য এমনিতেই হাসপাতালের রাস্তাটি অনেক ছোট। তাই দুটি গাড়ি পাশাপাশি ক্রস করতে ও পারেনা অনেক সময়। হাসপাতালের সড়কের পথচারি জনৈক রোগী আবুল খায়ের ( ৪৮) বলে রাস্তা ও যেমন সরকারি আবার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও সরকারি। তবে ওদের ভেতরের অংশে বিশাল খালি জায়গা থাকা স্বত্বে ও ওরা রহস্যজনকভাবে রাস্তা দখল করে এই সীমানা প্রাচীর নির্মান করছে। যা উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের নিত্য জরুরী মুমুর্ষ রোগী যাতায়াতে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। হাসপাতাল গেইটের ফার্মেসী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন এলাকার মানুষ এখানে বার বার প্রতিবাদ করার পর ওরা তবুও ঝুকিপূর্ণভাবে খুবই সংকীর্ণ করে ফেলতে চায় হাসপাতালের রাস্তাটি। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ও শত শত গাড়ি ভীড় করে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলার সাড়ে ৪ লক্ষ জনগনের স্বাস্থ্য রক্ষার ঠিকানা। এই প্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ নিয়ে এভাবে তামাশা করাটা সত্যিই অস্বাভাবিক বলে মন্থব্য করেন তিনি। প্রয়োজনে এখানে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাবার ঘোষনা ও দেয় গ্রামবাসী। গ্রামবাসী বলে সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন দ্বন্ধ থাকতে পারে নইলে এভাবে প্রতিহিংসা পরায়ন হতো না ওরা। কিন্তু তাই বলে জনগন ও মুমুর্ষ রোগীরা কেন এর জন্য ভোক্তভোগী হবে। এছাড়া আরো কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে ঠিকাদার কর্তৃক নিন্মমানের সিমেন্ট, বালু, নিন্মমানের কংক্রিট ও রড দিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করেই ছোট ছোট গর্ত করে মনগড়া কাজের অভিযোগ ও তোলা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা সুপারভাইজার শিপন উদ্দিন বলে আমি কর্মচারি মাত্র। ঠিকাদার জনৈক রুবায়ত এর মোবাইলে এই বিষয়ে কথা বলতে বার বার ফোন দিলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ নুুরুল আবছার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি উক্ত রাস্তা সংকীর্ণ করে ফেলছে দেখে পরিবার পরিকল্পনা বরাবরে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জেন্ট এর কাছে অনুলিপি দিয়ে পত্র দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি কায়সার খসরু ইতিমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে হাসপাতালের রাস্তা প্রসস্থ রেখে সীমানা প্রাচীর নির্মান করতে বলেন । কিন্তু এরপর ও ওরা প্রাচীরের ঢালাই কিছুটা না সরানোতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বিষয়ে তিনি বলেন এই হাসপাতাল এই এলাকার সম্পদ, এলাকার সাধারন মানুষ যদি ক্ষুব্ধ হয়ে কোন ঘটনা ঘটায় এর জন্য আমরা দায়ী থাকবো না। এই বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি নিন্মমানের কাজের বিষয়ে খোঁজখবর রাখবেন বলেন আবার হাসপাতালের রাস্তার জন্য ছাড়ের বিষয়ে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির ও সহকারি কমিশনার ভূমি কায়সার খসরু বলেন হাসপাতাল যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাই হাসপাতালের বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে ছাড় দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান । কিন্তু এলাকাবাসী ইতিমধ্যে অভিযোগ করে গনমানুষের ক্ষতি করে ঠিকাদার রাতে ও চুরি করে অন্যায়ভাবে ঢালাই দেয়ার চেষ্টা করলে যে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।