Wednesday, November 13Welcome khabarica24 Online

মীরসরাইয়ে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় জ্বীনের হাত থেকে নিরাপদে পরিবারে ফিরে গেল সানজিদা

মাহবুব পলাশ ::
মীরসরাই উপজেলায় জ্বীনের হাতে সকাল থেকে নিখোঁজ হয়ে পার্শ্বের ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়া কোমলমতি ফুটফুটে কিশোরীটি অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যান ও পরে নির্বাহী কর্মকর্তার   কাছে পৌছে সার্বিকভাবে নিরাপদভাবে অবশেষে রবিবার ( ১৩ অক্টোবর) রাত অবধি পরিবারের কাছে ফিরলো নিরাপদে।
উপজেলার মায়ানী ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমদ নিজামী পেশাগত ভিন্ন কাজে গিয়েছিলাম আমি ও । তখন সময় বিকেল ৪টা। দিনের প্রচন্ত ব্যস্ততা কাটিয়ে মাত্র দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন চেয়ারম্যান সাহেব। এসময় পশ্চিম মায়ানির ইউপি সদস্য জানে আলম ১৪ বছরের এক কিশোরীকে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে আসে। পশ্চিম মায়ানী গ্রামের শাহ আলম হুজুর তার বাড়ি থেকে উক্ত মেম্বারের কাছে কিশোরিকে হস্তান্তর করে। চেয়ারম্যান কবির নিজামী তার কার্যালয়ে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উক্ত কিশোরীর নাম পরিচয় জানতে চাইলে কিশোরী তার নাম জান্নাতুল ফেরদাউস মরিয়ম বলে জানায়। সে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ্ববর্তি একটি বাসায় আন্টির সাথে থাকে বলে। এখানে তাকে একটি জ্বীনে নিয়ে আসছে বলে জানায়। জ্বীন তাকে একটি সিএনজিতে রেখে চলে গেছে বলে। এই জ্বীন তাকে আগে ও নিয়ে আসছিল, আবার বাড়ী পৌছে দিয়েছে বলে। সে তার বাবা মা কিংবা নিকটাত্মীয় কারো মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা ও বলতে পারছিল না। অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যান কবির নিজামী উক্ত ফুটফুটে এবং কোমলমতি শিশুর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এর পরামর্শ চাইলে নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোরীকে জেলার সাথে যোগাযোগ করে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া করছিলেন। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলে খবর ইউপি চেয়ারম্যান কবির নিজামী জানান কিশোরী সন্ধানকারী পরিবারের হদিস পাওয়া যায়। এতে জানা যায় মীরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের শেখটোলা গ্রামের রসুল আহমেদ ও সুরাইয়া বেগম এর কন্যা সানজিদা আক্তার মিতু সে। বাবা প্রবাসে থাকেন। খবর পাবার কিছুক্ষনের মধ্যেই মা, চাচা, নানা, খালা সহ সকলে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পারিবারিক এ্যালবাম এর ছবি ইত্যাদি নিয়ে এসে উপস্থিত হন। চাচা মহিউদ্দিন জানান তাদের কন্যা মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। সকালে উঠে ফজর নামাজ পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে সকলের অজান্তে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাচ্ছিল না। চাচা মহিউদ্দিন জানান গত রমজানের পরে এমন সমস্যা হয়েছিল। এবার এভাবে পার্শ্বের ইউনিয়নে উধাও হয়ে যাওয়া এবং দুপুরে শাহ আলম হুজুরের বাড়িতে তার অস্বিত্ব পাওয়া। কারো আপত্তিকর দৃষ্টিতে না পড়ার জন্য হুজুর বোরখা পরিয়ে রাখে, পরিবারের সাথে তাকে দুপুরের আহার ও করান। ইতিমধ্যে সবাই আসেপাশের গ্রাম তন্নতন্ন করে খুঁজেছে। অবশেষে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি মেয়ে আনা হয়েছে খবর শুনে ছুটে আসেন তারা। অবশেষে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কিশোরী সানজিদাকে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করেন নির্বাহী কর্মকর্তা। এসময় অশ্রসিক্ত সানজিদার মা সুরাইয়া আক্তার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন আমার এই ফুটফুটে কিশোরী কন্যা নিরাপদে কিছু ভালো মানুষের হাত ধরে পরিবারে ফিরে যাওয়ায় নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও ইউপি চেয়ারম্যান কবির নিজামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বখাটে বা কোন আপত্তিকর মানুষের হাতে পড়লে অবুঝ কিশোরীর যে কোন ক্ষতি হতে পারতো। তিনি উক্ত ঘটনায় সহযোগিতা প্রদানকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে মন্থব্য করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন বিষয়টি কিশোরীর বয়সন্ধিকালিন কোন মানষিক চাপ এর কারনে ও ঘটতে পারে। জ্বীনের বিষয় হোক আর অসুস্থতা হোক সকলকে তাদের সন্তানদের প্রতি সবসময় খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে করি বলে মন্থব্য করেন।