সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মিশরে গণতন্ত্র আন্দোলনকারীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

image_191788.0,,17700596_303,00
সোমবার কায়রোর একটি আদালত বিশিষ্ট গণতন্ত্র আন্দোলনকারী আলা আবদেল-ফাতাহ’কে বেআইনি বিক্ষোভ আয়োজনের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই রায়কে বলেছে ‘‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক”৷অস্থায়ী আদালতের অধিবেশন বসেছিল একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে৷ আলা আবদেল-ফাতাহ ও মামলার অপর আসামী আহমেদ আবদেল-রহমানকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন বিচারক হাসান ফরিদ৷ আরো ২২ জন অভিযুক্তকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রণীত বিক্ষোভ আইন ভঙ্গ করার অভিযোগ ছিল৷ঐ বিতর্কিত আইন অনুযায়ী, বিক্ষোভের উদ্যোক্তাদের পুলিশকে তিনদিনের নোটিস দিতে হবে৷ অপরদিকে পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারবে৷ সমালোচকদের মতে সরকার এই আইনের বলে ভিন্নমতাবলম্বীদের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন৷ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই আইনের প্রয়োজন৷
আবদেল-ফাতাহ ও তাঁর সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় তাঁরা ‘‘সামরিক শাসনের পতন ঘটুক” ধ্বনি দেন৷ অভিযুক্তদের যখন আদালতকক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন উপস্থিত দর্শকরা করতালি দিয়ে তাঁদের সম্বর্ধনা জানান৷২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মিশরীয় সংসদের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ ঘটে, যার উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক ব্যক্তিদের সামরিক বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো৷ এই বিক্ষোভের ঠিক দু’দিন পরে আবদেল-ফাতাহকে গ্রেপ্তার করা হয়৷
পুলিশ কিছুক্ষণের মধ্যেই জলের কামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ঐ বিক্ষোভ সমাবেশ ভেঙে দেয়৷ মহিলা আন্দোলনকারীরা পরে বলেন যে, জেল ফাটকে তাদের যৌনভাবে উত্যক্ত করা হয়েছে এবং পরে একটি ফাঁকা রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷বাকি আন্দোলনকারীরা পরে বলেছেন যে, আবদেল-ফাতাহ’র ঐ বিক্ষোভের সঙ্গে কোনো যোগ ছিল না; একজন বেসামরিক ব্যক্তি মহিলা আন্দোলনকারীদের উত্যক্ত করছে দেখে তিনি বাধা দিতে যান৷ ‘নো মিলিটারি ট্রায়ালস’ গোষ্ঠীর সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা তদন্তকারীদের বলেছেন: তাঁরাই বিক্ষোভের উদ্যোগ করেন, আবদেল-ফাতাহ নন৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও গত জুন মাসে আবদেল-ফাতাহ ও তাঁর সহ-অভিযুক্তকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়: সে রায়ও আবার ঘোষণা করা হয়েছিল অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে, কেননা বিচারক চূড়ান্ত অধিবেশনে অভিযুক্তদের ভিতরে ঢুকতে দেননি৷আদত বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীনই আলা আবদেল-ফাতাহ’র পিতা এবং আসামী পক্ষের উকিল, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী আহমেদ সাইফ আল-ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন যে, মিশর ‘‘ইংলিশ ঔপনিবেশিকবাদ যাবৎ” তীব্রতম দমননীতি দেখছে৷ গত আগস্ট মাসে সাইফ আল-ইসলাম হার্ট সার্জারির সময় পরলোকগমন করেন৷অক্টোবর মাসে আবদেল-ফাতাহ’র বোন সানা সাইফ’কেও অপর একটি অননুমোদিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল৷ এবার দু’জনের মা লাইলা সাইফ আদালত ভবনের অভ্যন্তরে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন৷ কায়রোর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দুই সন্তানকে ছেড়ে না দেওয়া অবধি তিনি ধর্মঘট করে যাবেন, বলে ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা লাইলা সাইফ৷মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমবারেই এই ‘‘নতুন কঠিন দণ্ডের’ নিন্দা করেছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র জেন সাকি সাংবাদিকদের বলেছেন: ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে বিশ্বাস করে যে, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করার মাধ্যমে একটি দেশ তার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব আরো জোরদার করে৷’আবদেল-ফাতাহ এবং অন্যান্যকে এই সর্বাধুনিক দণ্ডদান ‘‘মতপ্রকাশ এবং সভা-সমাবেশ করার দু’টি মুখ্য স্বাধীনতার উপর ভীতিকর প্রভাব” ফেলবে, বলে সাকি মন্তব্য করেছেন। ডয়েচে ভেলে