মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়

untitled-13_67508_0

মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের গৃহীত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ট্রাফিকিং ইনপারসন ২০১৪ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, মানব পাচার নির্মূলে বাংলাদেশ নূ্যনতম মানদণ্ড পুরোপুরি মেনে চলেনি। যদিও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু তাৎপর্যপূর্ণ কাজ দেখা গেছে। গতকাল প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের প্রিভেনশন অ্যান্ড স্পরেশন অব হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যাক্টের (পিএসএইচটিএ) আওতায় অনেক ঘটনার তদন্ত ও বিচার করেছে। তবে আগের মতোই খুব কম সংখ্যক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের ম্যাকানিজমের অভাব রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়নি, যাতে তারা পাচারকারীদের শনাক্ত করে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে। ইউএনবি।মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার রিত্রুক্রটিং এজেন্টদের লাইসেন্স দিতে কঠোরতা আরোপ করলেও রিত্রুক্রটমেন্ট ফি খুব বেশি নেওয়ার বিষয়টি এখনও তারা অনুমোদন করছে। প্রতিবেদনে মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে পিএসএইচটিএর বিধিমালা বাস্তবায়নে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা, রিত্রুক্রটমেন্ট ফি কমানোর দ্রুত পদক্ষেপ, পাচার-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচারের জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ, পাচারকারীদের সাজাপ্রদান, বিশেষ করে শ্রমিক পাচারকারীদের।

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র; বিশেষ করে বিচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারাপাচারকারীদের সহায়তা করলে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে মানব পাচারকারীদের বিচারের বিষয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার পাচারবিরোধী আইন প্রয়োগে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১২ সালের আইনে সব ধরনের মানব পাচার নিষিদ্ধ করে এর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। যদিও এই আইনে নিয়োগকৃত কর্মীকে জোর করে কাজ করতে বাধ্য করা হলেই কেবল বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টিকে ভুয়া নিয়োগ আখ্যায়িত করে তাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। আইনে এ ধরনের শ্রমিক পাচারের সাজা ৫ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মোটামুটি ৬০০ ডলারের মতো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া যৌনকর্মে পাচারের ক্ষেত্রে সাজা রাখা হয়েছে ৫ বছর কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত। এ ধরনের সাজা অবশ্যই যথেষ্ট। কিন্তু এই প্রতিবেদন প্রণয়নকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার আইনটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির মধ্যেই ছিল। এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কোনো ঘটনা ঘটেনি।মার্কিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে যৌনকর্মী হিসেবে পাচারের ৮৪টি নতুন ঘটনা তদন্ত করেছে। জোর করে কাজে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করেছে ২টি। ২০১২ সালে যৌনকর্মী ও শ্রমিক পাচারের ঘটনা তদন্ত হয়েছে মাত্র ৬৭টি।

মার্কিন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদশ নারী, পুরুষ ও শিশু এবং জোর করে শ্রমিক ও যৌনকর্মী পাচারের প্রাথমিকভাবে একটি উৎস দেশ। কাজের জন্য ইরান, ইরাক, লেবানন, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, সুদান, মরিশাস, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ইচ্ছাকৃতভাবে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি নারী-পুরুষ জোর করে কাজ করতে বাধ্য হয়। এছাড়া বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায় অমানবিক মানব পাচারের শিকার। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও কিছু শিশু ও নারী যৌন কাজে পাচারের শিকার হয়।