রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বিএনপি নেতা মওদুদ রফিকুল মাহবুব জামিনে মুক্ত

mowdud-rafikul-mahbub_65239

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় খন্দকার মাহবুব হোসেন ও ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় জেল গেইটে নেতাদের আত্মীয় স্বজন ও বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলায় আদালত থেকে জামিন পান বিএনপির এই তিন নেতা।
কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, দেশে একটি অনির্বাচিত সরকার আছে। যেহেতু তারা সরকারে আছে সেহেতু তাদের সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হবে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য এই সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যহাত থাকবে। তিনি বলেন, সংবিধানে যে ভাবে নির্বাচনের কথা বলা আছে সে ভাবে দেশে নির্বাচন হয়নি। দেশের মঙ্গলের জন্য ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করার জন্য সরকার নিজে থেকে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়।
কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, এই সরকার ফ্যাসিস্ট সরকার, তা বেশিদিন টিকবে না। এসময় খন্দকার মাহবুব হোসেন  মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি করে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন না হলে দেশে গণ অভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ই নভেম্বর একটি আনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সোনারগাঁও হোটেল থেকে বের হওয়ার পর আটক করা হয় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলামকে। গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে আটক করা হয় খন্দকার মাহবুব হোসেনকে। এরপর বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদকে গুলশানের সরকারি বাড়ি আত্মসাৎ ও দখলের মামলায়, খন্দকার মাহবুব হোসেন কে পুলিশের কাজে বাধা ও আগুন দেয়ার অভিযোগে রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এর মধ্যে মওদুদকে হরতাল-অবরোধে নাশকতার ও হেফাজতকে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে ২৭ ডিসেম্বর অবৈধভাবে সরকারি বাড়ি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দুদক আরেকটি মামলা করলে তাতেও গ্রেফতার দেখানো হয় মওদুদকে।
এর আগে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খন্দকার মাহবুবকে ৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়ে বের হওয়ার সময় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ২৩ জানুয়ারি জামিন পান। হাইকোর্ট মওদুদ আহমদকে ৬ মাস ও খন্দকার মাহবুবকে রুল নি®পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেয়া হয়েছে।
গত ২৬ জানুয়ারি সাবেক মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া কে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। গত বছরের ৬ মে মতিঝিল থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় এ জামিন দেয়া হয়। গত বছরের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তাণ্ডবে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান হত্যার ঘটনায় এবং অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এ দুটি মামলা দায়ের করে। এ দুটি মামলায় তাকে উস্কানিদাতা হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর জেলার মো: মুজিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেনের জমিনের কাগজপত্র আসে। পরে যাচাইবাছাই শেষে  সকাল ১১টার দিকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর জেলার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের জামিনের কাগজপত্র সোমবার সন্ধ্যায় কারগারে পৌঁছে। যাচাইবাছাই শেষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। গত বছরের ৯ নভেম্বর তাকে কাশিমপুর কারাগারের-১ এ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা ছিল।
উৎস- যুগান্তর