বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বান্দরবানের মারমা আদিবাসীদের মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব অনুষ্ঠিত

image_73106.bandorban
বান্দরবানের মারমা আদিবাসীর বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ ‘মৈত্রী পানি বর্ষণ’ (ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল) আজ মঙ্গলবার পুরাতন রাজবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্যান্ডেলের এক পাশে পাত্র ভর্তি পানি নিয়ে মারমা তরুণীরা মুখোমুখি দাঁড়ায় বাঁশের ওপাশে থাকা তরুণদের। তাদের সামনেও থাকে পানির আধার।হুইশেলের শব্দে শুরু হয় পরস্পরকে লক্ষ্য করে পানি নিক্ষেপ। পানির প্রবল বর্ষণে সিক্ত হয় ওরা সবাই। মারমারা বিশ্বাস করে, এভাবেই মুছে যায় পুরাতন বছরের দুঃখ-গ্লানি। মারমা ভাষায় এর নাম ‘সাংগ্রাইং পোয়ে।’
বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পানি বর্ষণ খেলা। এক দলের শেষ হলে প্রতিযোগীতায় নামে অন্যদল। এভাবে অংশ নেয় গোটা বিশেক দল। সবাই তরুণ। জানা গেল, উৎসব উপভোগের সুযোগ থাকলেও বিবাহিতদের ঠাঁই নেই এ প্রতিযোগিতায়।
পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে দিয়ে নিজেদের পূত-পবিত্র করার লক্ষ্যে বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সমাজ ‘মৈত্রী পানি বর্ষণ’ উৎসব উদযাপন করে থাকে। বান্দরবানের মারমা আদিবাসীরা মিয়ানমারের বুদ্ধাব্দ পঞ্জিকা অনুসরণ করে থাকে। ফলে বাঙলা নববর্ষ ১৪ এপ্রিল উদযাপিত হলেও মিয়ানমার পঞ্জিকা বা ‘সক্রয়’ সাল অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার বছরের শেষ দিন। বছরের শেষ দুই দিন পুরাতন বছরের বিদায় বন্দনার পর ১৭ এপ্রিল শুরু হবে ২০৭৭ ‘সক্রয়’ সাল। ১৪ এপ্রিল বিভিন্ন মন্দিরে স্থাপিত বুদ্ধমূর্তিগুলোকে মাথায় চাপিয়ে নিয়ে আসা হয় বান্দরবান শহরের উজানিপাড়ায় শংখ নদের ঘাটে। সেখানে চন্দন জলে মূর্তিগুলোকে স্নান করানো হয়।
এবারের উৎসবে যোগ দেন ঢাকায় নিযুক্ত মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত ম্য মেয়াং থান। তিনিও প্রতীকী পানি বর্ষণ করে ভিজিয়ে দেন তরুণ-তরুণী এবং সম্মানিত অতিথিদের। তরুণ-তরুণীরাও তাকে মৈত্রী পানি বর্ষণ করে সিক্ত করে দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। শুরুতেই তিনি নতুন বছরে সবার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। তিনি বলেন, এই উত্সব মারমা আদিবাসীর হলেও উপভোগ করেছি আমরা সবাই। সংস্কৃতির এ বন্ধন জীবনের সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা গেল জগত হয়ে উঠবে সবার মৈত্রীময় বাসস্থান।
বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার দেবদাশ ভট্টাচার্য, বান্দরবান পৌরসভার মেয়র জাবেদ রেজাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে মারমা শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।কাল বুধবার সক্রয় সাল ২০৭৬-এর শেষ দিনেও মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।