Wednesday, September 26Welcome khabarica24 Online

ফুটবলের দৌড়ে ওরা এখনো তরুণ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাত এগারোটা ছুঁই-ছুঁই। চারদিকে নিকষ অন্ধকার। তখনো মাঠে হাজারো দর্শকের অানাগোনা। ফ্লাড লাইটের বর্ণিল অালোক-সজ্জ্বায় তখন শুধু হেতালিয়া পাড়ের মলিয়াইশ মাঠটি ছিল আলোকিত। উল্লাস-উচ্ছ্বাস। একেরপর এক অাতশবাজি উঠছে আকাশে। হৈ-হৈ, রৈ-রৈ চিতকার। বলের দৌড়ে গোল-গোল সরবে মুখর হয়ে উঠছিল মাঠের চারপাশ। ব্যান্ড পার্টির বাজনার তালে দর্শকরাও নেচে গেয়ে জমিয়ে রাখছিলেন পুরোটা সময়। বর্ণিল তোরণ, রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন,প্লেকার্ডে বাড়তি শোভাবর্ধন করেছে পুরো চত্বর। পতপত করে উড়ছে বাহারি সব পতাকা। সুমধুর ধারাভাষ্যের সাথে বেজে উঠছিল বার বার- ‘দুর্বার দুর্বার প্রিমিয়ার লিগ-উৎসবের আমেজে প্রিমিয়ার লিগ’। এসব আয়োজন শুধুমাত্র মীরসরাইয়ের বহুল আলোচিত সামাজিক সংগঠন ‘দুর্বার প্রগতি সংগঠন’ এর উদ্যোগে ৩য় বারের মত আয়োজিত দুর্বার প্রবীন ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে। যেখানে খেলেছেন উপজেলার একসময়কার ৪০ জন কিংবদন্তী ফুটবলার। যাঁরা এখন বয়সের ভারে নুয়ে গেছেন- তবুও ফুটবলকে ভালবাসেন। যার দরুণ ৪৫ ঊর্ধ্ব প্রবীন বয়সেও ফুটবলের টানে মাঠে নেমেছেন শিরোপা জয়ের লক্ষে । যাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন ৫০,৬০ কিংবা ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সী। গত ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার ফ্লাড লাইটের আলোতে তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মাসুদের মালিকানাধীন প্রবীন লাল দল ও মো. নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন প্রবীন সবুজ দলের হয়ে তাই তাঁরা মাঠে নেমেছিলেন বল নিয়ে। যে খেলা ইতোমধ্যে সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে প্রবীন লাল দলের পরিচালক ছিলেন রিয়াজ উদ্দীন, কোচ হারেছ অাহমদ নাজিম, সহকারী জাফর ইকবাল, অধিনায়ক কেশব লাল চৌধুরী, খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্য যারা ছিলেন-নেপাল চন্দ্র দাশ(৫০), বিভূতী ভুষন ভৌমিক(৫৫), উত্তম কুমার ভৌমিক(৫২), বিমল চন্দ্র দাশ(৫০), জসিম উদ্দীন(৪৬), মাহবুবুল করিম(৫০), মুসলিম উদ্দীন(৫৩), রোকন উদ্দীন(৫৩), অর্জুন নাগ(৭০), জয়নাল অাবেদিন ভূঁইয়া(৬৭), সিরাজ উদ-দৌলা(৫৫), ছলিম উল্লাহ(৬০) ও রণজিত(৪৭)। প্রবীন সবুজ দলে পরিচালক ছিলেন নিজাম উদ্দীন, কোচ নাজমুল হক হেলাল, সহকারী আলী হায়দার চৌধুরী, অধিনায়ক গিয়াস উদ্দীন(৬৫), খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন- মহিউদ্দীন(৪৭), জাহাঙ্গীর (৪৭), মাসুদ(৪৫), দীপক চন্দ্র দাস(৪৬), রুহুল অামিন(৬২), ফেরদৌস(৫৫), মহব্বত উল্লাহ (৬৮), জামাল উল্লাহ(৭৩), ফারুক(৫৪), জিয়া উদ্দীন মাসুদ(৪৬), অামিন শরীফ(৬২), সৈয়দ অাহমদ(৫৮) ও নাজিম উদ্দিন(৫৮)। এসকল খেলোয়াড়রা বার্ধ্যকের এ শেষ পর্যায়ে এসে শিরোপা জয়ে মাঠে নেমেছেন- তা সবাইকে অবাক করেছে।

তবে অবাক হওয়ার বিষয় হলেও-এ অসাধ্য কাজটিকে সফলভাবে শেষ করেছেন অায়োজকরা। সে দিনের সে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দু-দলের মধ্যে শ্বাসরুদ্ধকর তুমুল প্রতিযোগিতায় প্রবীন লাল দলকে এক-শূন্য গোলে পরাজিত করে প্রবীন সবুজ দল দুর্বার প্রবীন শিরোপা জয় করে। ব্যতিক্রমধর্মী এ খেলা উপভোগ করার জন্য দূর-দুরান্ত থেকে দর্শকের ছিল উপচে পড়া ভীড়। দর্শকরা এসকল প্রবীন ফুটবলারদের নান্দনিক খেলা বেশ আনন্দের সাথে উপভোগ করেছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মরহুম এমরান চৌধুরীর সৌজন্যে দুর্বার প্রবীন ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন দৈনিক অাজাদী পত্রিকার ফিচার সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের সেক্রেটারি বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল অানোয়ার চৌধুরী বাহার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অর্থ-সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক দেবদুলাল ভৌমিক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মিশকাতের রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দীন। এসকল অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে – ‘বয়সের ভারে নুয়ে যাওয়া এসব প্রবীন ফুটবলাররা এখনো যেভাবে তারুণ্যোদ্দীপ্ত হয়ে মাঠে বল নিয়ে দৌড়াচ্ছেন – তা ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে কখনো সম্ভব হতো না বলে মনে করেন। মীরসরাইয়ের এ জনপদে ফুটবলের প্রতি নবীন-প্রবীনের এ ভালোবাসা সৃষ্টিতে অায়োজক দুর্বার প্রগতি সংগঠনের প্রশংসা করেন সবাই।’ পরে অতিথিবৃন্দ খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন।

এ সময় অারো উপস্থিত ছিলেন- মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হুদা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামছুদ্দীন, ব্যবসায়ী সোহেল অানোয়ার চৌধুরী, শিক্ষানুরাগী ও সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম শামীম, পৃষ্ঠপোষক শাহ অালম, শিক্ষক এম দস্তগীর, চাকুরীজীবী রেজাউল করিম, আজীবন সদস্য হুমায়ূন কবির, আজীবন সদস্য নুরেন্ন নবী চৌধুরী নওশাদ, ব্যবসায়ী নুর-উদ্দীন সেলিম, সাংবাদিক এম. মাঈন উদ্দীন, সাংবাদিক এম. আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক বাবলু দে, সাংবাদিক ইমাম হোসেন, সংগঠনের ক্রীড়া সম্পাদক আহাদ উদ্দীন ও ডিপিএল কমিটির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দীন বাবলু সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ। এ ফুটবল ম্যাচের প্রধান পরিচালক ছিলেন মো. নুরুল অাবছার। ম্যাচ রেফারী ছিলেন ডিপিএল কমিটির আহবায়ক মহিবুল হাসান সজীব, ক্রীড়া পরিষদের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ বাবু ও সদস্য সৃজন পাল। ধারাভাষ্যে ছিলেন সৈকত চৌধুরী ও নাহিদুল অানসার।

সবশেষে অনুষ্ঠিত র‍্যাফেল ড্রতে টেলিভিশন জিতে নেন পশ্চিম মলিয়াইশ গ্রামের তেজেন্দ্র কুমার দাশ।