শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ফাইনালে বাংলাদেশ

2_216813
চাইনিজ তাইপের রেফারি ইয়ুং মিং সুং শেষ বাঁশি বাজালেন। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকারে ফেটে পড়ল পুরো স্টেডিয়াম। দর্শকদের আনন্দে ভাসিয়ে মাঠে উল্লাসে মেতে ওঠেন লাল-সবুজের গৌরবগাঁথা ফুটবলাররা। পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন। এমন উৎসবের আবহ শেষ কবে দেশের ফুটবলে এসেছিল তা হয়তো অনেকেরই অজানা। আনন্দের আতিশয্যে উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের কোলে ওঠে গেলেন অধিনায়ক মামুনুল।কথা রাখলেন মামুনুলরা। প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে খেলছে বাংলাদেশ। এখন শিরোপা স্বপ্ন পূরণের আরও কাছে লাল-সবুজরা। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছে গেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারণী একমাত্র গোলটি করেন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। রোববার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া।দুই যুগেরও বেশি সময় পর কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরের ফাইনালে উঠল লাল-সবুজরা। ২৬ বছর আগে সেই ১৯৮৯ সালে ঢাকায় প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় দল।দু’ম্যাচে দু’গোল। দু’গোলেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। গ্র“প ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে গোল করা হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস দলকে সেমিফাইনালে উঠিয়ে নায়ক হয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলে নায়ক হয়ে গেলেন নাসির। তবে আসাধারণ গতিময় ফুটবল উপহার দেয়ায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন উইঙ্গার জাহিদ হোসেন।বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কাল তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না! বসার জায়গা না পেয়ে শত শত দর্শক দাঁড়িয়েছিলেন। ইতিহাসের সাক্ষী হতে কাল মাঠে এসেছিলেন প্রায় ২৬ হাজার দর্শক। শেষ কবে স্টেডিয়ামে এত দর্শক হয়েছিল, তা মনে করতে পারলেন না অনেকেই।কৌশল আর গোলের খেলা ফুটবল। দু’টোতেই জয়ী বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই গতি আর ক্ষিপ্রতা নিয়ে দৌড়েছেন মামুনুল, জাহিদ, হেমন্ত, এমিলিরা। ক্ষণে ক্ষণে মামুনুল, হেমন্তু, জাহিদদের আক্রমণ সেটাই বলে। অবশেষে সেই গতিই এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। কাক্সিক্ষত গোলের দেখা মেলে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে মামুনুলের কর্নার। উড়ে আসা বলে বক্সের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা নাসিরের দুর্দান্ত ফ্লিকে থাইল্যান্ডের জাল কাঁপে (১-০)। ৫৪ মিনিটে জাহিদের পাস থেকে মামুনুলের শট সাইডবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৬৪ মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসার একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে থাইল্যান্ড। অধিনায়ক পার্মপাক পাকর্নের শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এগিয়ে থেকেও আক্রমণের পর আক্রমণ শানাতে থাকে বাংলাদেশ। তবে ৮৪ মিনিটে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করলেন ডাচ কোচ ডি ক্রুইফ। উইঙ্গার জাহিদকে উঠিয়ে ডিফেন্ডার নাসিরুল ইসলামকে এবং ৮৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড এমিলিকে উঠিয়ে মিডফিল্ডার রাজুকে নামানো হয়। গুরুর এমন কৌশল যে ভুল ছিল না, তা প্রমাণ করে দেন শিষ্যরা।