রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পাসের রেকর্ড

23911_f3

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার রেকর্ড গড়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ সব কিছুতেই অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের ফল। গতকাল সব বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশিত হয়। এবার ৮টি সাধারণ বোর্ডসহ ১০টি বোর্ডের পরীক্ষায় মোট ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৩৩১ জন। পাসের হার ৯১.৩৪ ভাগ। যা গত বছরের চেয়ে ২.৩১ ভাগ বেশি। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৯.০৩ ভাগ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। পাসের হার ও জিপিএ ৫-এর ক্ষেত্রে এবার মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা ভাল করেছে। গতবারের চেয়ে এ সংখ্যা ৫১ হাজার ৫০ বেশি। ২০১৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯১ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল সকাল ১০টায় ২০১৪ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলের কপি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। এসময় সব বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর দুপুর ১টায় সচিবালয়ের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রী ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ৯ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হয় ২০শে মার্চ। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৮ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো। এবার শত ভাগ পাস করেছে ৬২১০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। যা গত বছরের চেয়ে ১১১৮টি বেশি। ২৭ হাজার ৪৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২৯৪২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। এবার ২১টি বিষয়ের পরীক্ষা হয় সৃজনশীল পদ্ধতিতে। তবে এবারও ছিল প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তোপের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
সাধারণ ৮ বোর্ডে পাসের হার ৯২.৬৭ ভাগ: ৮টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৯২.৬৭ ভাগ। ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০ লাখ ৮১৭৪ জন। ২০১৩ সালে সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৯.৭২ ভাগ। বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৯৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ জন। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৭ হাজার ৩৮১ জন। জিপিএ-৫ এবার বেশি পেয়েছে ৪৪ হাজার ৯৩২ জন।
মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ ১৪,০১৩: মাদরাসা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৩ জন। ২০১৩ সালের চেয়ে এ সংখ্যা ৪৩৪০ বেশি। পাসের হার ৮৯.২৫ ভাগ। গতবারের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১২ ভাগ। এ বোর্ডে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ২ লাখ ১১ হাজার ২০৩ জন।
কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১.৯৭ ভাগ: কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১.৯৭ ভাগ। এ বোর্ডে ১ লাখ ২৪২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৮৩ হাজার ৯৫৪ জন। পাসের হার গত বছরের চেয়ে ০.৮৪ ভাগ বেড়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯৫০ জন। যা গত বছরের চেয়ে ১৭৭৮ জন বেশি।
বিদেশ কেন্দ্র: বিদেশের ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ২৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করে ২৮৮ জন। পাসের হার ৯৮.২৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮২ জন।
দু’টোতেই ছেলেরা এগিয়ে: জিপিএ-৫ ও পাসের হার দু’টোতেই ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৯০ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৬ লাখ ৭১ হাজার ৯৬১ জন। পাসের হার ৯১.৮৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭ হাজার ৫৫১ জন। ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৩ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৭০ জন। পাসের হার ৯০.৮১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ হাজার ৭২৫ জন।
সবার শীর্ষে রাজশাহী বোর্ড: মাধ্যমিক ও সমমানের স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৮টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে এবার রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ হার ৯৬.৩৪ ভাগ। পাসের হার সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে- ৮৯.২৩ ভাগ। বাকি ৬টি বোর্ডের মধ্যে পাসের হার ঢাকায় ৯৩.৯৪ ভাগ, কুমিল্লায় ৮৯.৯২ ভাগ, যশোরে ৯২.১৯ ভাগ, চট্টগ্রামে ৯১.৪০ ভাগ, বরিশালে ৯০.৬৬ ভাগ, এবং দিনাজপুরে ৯৩.২৬ ভাগ। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৯.২৫ ভাগ। আর কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১.৯৭ ভাগ।
আগামীতে কেউ ফেল করবে না: মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতে কেউ ফেল করবে না। ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ ইফতেখার ইশতি, মানিকগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রীতুপর্ণা সরকার, মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. জামান ও মানিকগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মো. আলমগীরের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী এরপর তার বক্তব্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ বছর খুব কঠিন ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বছরের শুরুতে সময়মতো বই পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আমার আগে বক্তব্য দিলেন, তারা আমার নাতনির বয়সী। আমি এদের নানি বা দাদি। এরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। এদের জন্য আমরা উন্নত সমাজ সৃষ্টি করতে চাই। তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা উন্নত জীবন গড়ে তুলবে। প্রত্যেক এলাকার স্বাবলম্বী লোকদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার পরও আমরা এবারও ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করেছি। বরং, দু’দিন আগে ফলাফল প্রকাশ করেছি। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে ফলাফল প্রকাশ করার সময় তিনি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ করিমের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রমাণিত হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, ফলাফলের বিভিন্ন সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গতকাল দুপুরে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিতের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে চ্যালেঞ্জিং। এজন্য এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার স্কুলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ ক্লাস নেয়া হয়েছে। এতে পশ্চাৎপদ স্কুলগুলোতেও ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান মন্ত্রী ।
দেশসেরা ১০ প্রতিষ্ঠান: ঢাকা বোর্ডে সেরা প্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫১৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০৭ জন। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর হার, পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হর, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা প্রতিষ্ঠান তালিকা করা হয়। রাজশাহী বোর্ডে সেরা হয়েছে বগুড়া ক্যান্টেনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে সেরা হয়েছে কুমিল্লা জেলা স্কুল। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৭৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫৩ জন। যশোর বোর্ডে সেরা হয়েছে ঝিনাইদাহ ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে সেরা হয়েছে কলেজিয়েট স্কুল। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৮৭ জনের সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬৮ জন। বরিশাল বোর্ডে সেরা হয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। সিলেট বোর্ডে সেরা হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। দিনাজপুর বোর্ডে সেরা হয়েছে ক্যান্টেনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৮ জন। মাদরাসা বোর্ডে সেরা হয়েছে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ৩০০ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৪ জন। কারিগরি বোর্ডে সেরা হয়েছে ইউসিইপি মুহসীন টেকনিক্যাল স্কুল। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।