সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পানি শূন্য আগামী পৃথিবী

index

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন :-

আজ ২২শে মার্চ।বিশ্ব পানি দিবস।প্রতি বছরের মত এবারও বিশ্ব পানি দিবস পালিত হচ্ছে।পানির অপর নাম জীবন।পানি ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়না। পানি আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্ব অংশ।দৈনন্দিন কাজের প্রতিটি কাজে পানির প্রয়োজন।তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য যে , যত দিন গড়াচ্ছে ,আমরা সবাই পানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি তীব্র ভাবে।কখনো আমাদের এই পৃথিবী যদি পানিশূন্য হয়ে পড়ে তবে কি হবে,একবারও কি ভেবে দেখেছি? কল্পনা করতেই শরীরটা শিউরে উঠে।পানি শূন্য পৃথিবীতে  বাঁচবেনা পশু পাখি,বাঁচবেনা গাছপালা।মানব জাতিই বা বাঁচবে কেমন করে?তাই পানি সংকট বর্তমান বিশ্বের একটি আলচিত বিষয়।পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ধারনা ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে পানি ঘাটতি দেখা দিবে। ভবিষ্যতে খাবার পানি ফুরিয়ে যাবে কিনা?এই প্রশ্নও আজকাল দেখা দিচ্ছে অনেকের মনে।পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে মোট পানির ৯৭.৪ শতাংশ রয়েছে সাগরে।উল্লেখ্য পানি আবার দুই ভাগে বিভক্ত,যথা-লোনা পানি ও মিঠা পানি।আমরা জানি লোনা পানি কখনই পানের উপযোগী নয়।অন্যদিকে খাওয়া-দাওয়া, ফসল  ফলানো,কল কারখানা সব জায়গাতেই দরকার মিষ্টি পানির।আর তা রয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ।সামান্য পরিমান মিষ্টি পানি যা আছে,তার ৯৮ শতাংশ আছে জমাট অবস্থায় বরফ হয়ে।সেটা সাধারন ভাবে ব্যাবহার করা যাচ্ছেনা।এছাড়া খাওয়ার যোগ্য যেটুকু সুপেয় পানি রয়েছে সেটুকু ও দ্রুত দূষিত হয়ে যাচ্ছে।ওজন স্তরের ক্ষয়ীভবনের অব্যহত পক্রিয়ায় পৃথিবীর পরিবেশ এখন মারাতœক বিপর্যয়ের সন্মুখীন।পরিবেশ বিপর্যয়ের বিভিন্ন  উপসর্গ ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রান্তের পৃথিবী বাসীর জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে।কৃষি ও পান করার উপযোগী পানি সংকট তার অন্যতম প্রধান কারন।পৃথিবীর জনসংখ্যা অত্যাধিক হারে বাড়ছে তাই অধিক জনসংখ্যার জন্য অধিক হারে ফসল উৎপাদনের চিন্তা করতে হচ্ছে।এই অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য অধিক হারে ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির পাশাপাশি ভূ-গভৃস্থ পানির ব্যাবহার বাড়ছে।আর তাই পানের উপযোগী পানির সংকট ক্রমশ বাড়ছে। ফসল উৎপাদন পতিত জমি,ও মরুভূমিকে আবাদ যোগ্য করতে গিয়ে ভূ-গভৃস্থ পানি উত্তলন করতে হচ্ছে।এতে করে ভূ-গভৃস্থ পানির উপর চাপ পড়ছে। ভূ-গভৃস্থ পানির ভন্ডার অফুরন্ত নয়।ভূ-গভৃস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।এর প্রভাব পড়ছে ভূ-পৃষ্ঠে।পানির সংকটে তীব্র শোচনীয় করে তুলছে মাছ,পাখি সহ অগনিত জীবযন্তু ও কীট-পতঙ্গের জীবন।ফলে পানির জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
পানি  নিয়ে সংগ্রামের দৃশ্যটি দেখতে হলে বেশী দূরে দৃষ্টি দিতে হবেনা।রাজধানী ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার দিকে তাকালেই বোঝা যায়।ঢাকার অধিকাংশ এলাকার আধিবাসী প্রতিনিয়তই  সন্মুখীন হচ্ছে তীব্র্য পানি সংকটে।রাতের ঘুম হারাম করে পানি সংগ্যহ করতে হয় এলাকাবাসীকে ।দিনের অধিকাংশ সময়ই পানি থাকেনা।তাই পানি ধরে রাখার জন্য মানুষকে রাতের ঘুম নষ্ট করে বসে থাকতে হয়।এত কষ্টের পরও যে পানি সংগ্রহ করে সেই পানিও পান ও ব্যাবহারের অনুপোযোগী।বিশুদ্ব পানির সন্ধানে তাদের ছুটতে হচ্ছে এদিক সেদিক।তার পর ও বিশুদ্ধ পানি নেই।সারাদিন পানি না থাকায় পানির ত্র“টিপূর্ন পাইপ দিয়ে ট্যানারির বর্জ্য পদার্থ প্রবেশ করে। ফলে সন্ধ্যার পর পানি এলে তার সঙ্গে বর্জ্য পদার্থ পড়তে দেখা যায়।এই দূষিত পানি বাধ্য হয়েই পান করতে হচ্ছে।যার ফলে নানা রোকম অসুখ বিসুখে ভোগে।বিশুদ্ধ পানির সংকট এখন তীব্র্যতর। জানিনা আগামিতে আমাদেও মত উন্নয়নশীল দেশে বসবাসকারী মানবসন্তানের অবস্থা কি হবে ! কারন অদূর ভবিষ্যতে আমাদেও এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পাওে,যা আমরা কল্পনাও করতে পারছিনা।এই যুদ্ধের পরিনতি যে কতটা ভয়াবহ হবে তা ভাবতে গিয়ে শঙ্কিত হচ্ছেন উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।অবাক হলেও সত্য যে,এই যুদ্ধ হবে পান উপযোগী পানির জন্য।আমাদেও দেশ নদীমাতৃক দেশ।আর তাই নদীকে বলা  হয়ে থাকে জীবনের উৎস।এটা যেমন সত্য,তেমনি নদীরও একটি জীবন আছে।মানুষ ও প্রানীকুলের জীবনের মত নদীর জীবনেরও পরিচর্যার প্রয়োজন।নদীর নব্যতা হারালে,পানি ধারনক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাকে পুনরুজ্জিবিত করতে হয়।দুঃখের বিষয় এই যে,আমাদের দেশের নদীগুলো নিতান্তই প্রাকৃতিক নিয়মে বয়ে চলছে।কোন সংস্কার নেই বললেই চলে।আগামী ২৫ বছরে দেশের প্রায় সকল নদী তার নব্যতা হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাই এই বিষয়ে এখন থেকেই পর্যায়ক্রমে ব্যাবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।পানিকে বলা হয় সম্পদ।সত্যিই পানি এক বিশাল সম্পদ।কিন্তু এই পানি সম্পদ রক্ষায় আমাদের সচেতনতার অভাব সীমাহীন।এটা অত্যান্ত দুঃখজনক।সুতরাং আমাদের উচিত এই ভয়াবহ পানি সংকটের সন্মুখীন হওয়ার আগেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি অপচয় না করে,পানি সংরক্ষনে এগিয়ে আসা।আমাদের সবার প্রিয় এই ধরনী কখনই পানি শূন্য হবেনা,এটাই হোক আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।