শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পাকিস্তান ভিসা না দেওয়ায় সাইকেলে প্রতিবাদ ভ্রমণ মুক্তিযোদ্ধা জাফরের!

Jafor Siraji

তিলক বড়ুয়া : এর পূর্বে দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন ২ বার। ভারতের আজমীর শরীফও ইতোমধ্যে ভ্রমণ করেছেন সাইকেলযোগে। তাঁর এই কার্যকলাপে স্বত:স্ফূর্ত হয়ে ইরানও তাঁকে ভিসা দেয়। ইচ্ছা এভাবেই পুরো বিশ্বের সৌন্দর্য দেখবেন নিজের মতো করে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াবেন- জীবন সায়ান্নে এসে এই ছিল তাঁর শেষ আশা। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য দেশটির দূতাবাসে আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা জাফর ফরাজী। কিন্তু বাধ সাধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত এই দেশটির দূতাবাস। পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করলে নামের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দেখে ভিসা দেয়না তারা। এর প্রতিবাদে পুণরায় ৬৪ জেলা ভ্রমণে নামেন ৬১ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা। এরই ধারাবাহিকতায় ৪০ তম জেলা ভমণ করতে গিয়ে সম্প্রতি তিনি আসেন চট্টগ্রামের মীরসরাইতে। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের পূর্ব কমলাপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু মুক্তিযোদ্ধা জাফর ফরাজী জানান, ১৯৭১ সালে কুমিল্লার ৪নং সেক্টরের কমাণ্ডার মোহাম্মদ সেলিমের অধীনে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। প্রাণবাজি রেখে দেশকে হানাদারমুক্ত করতে রাখেন অবদান।
সেই থেকে দীর্ঘ ৪২ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের প্রতি পাকিস্তানের সেই শত্র“তাভাব এতটুকু কমেনি, যা তিনি ভিসা না পাওয়ার পর হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেন। প্রবীণ এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন- ‘দেশ ভ্রমণের অংশ হিসেবে পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মতো পাকিস্তানেও আমি যেতে চেয়েছি। কিন্তু পাকিস্তান সরকার আমার সে আশা পূরণ হতে দিলনা।’ পাকিস্তানের স্বরূপ তিনি দেশবাসী তথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চান। তাই গত বছরের ১৫ ফেব্র“য়ারি মাস থেকে শুরু করেন বাইসাইকেলযোগে সারাদেশে প্রতিবাদী ভ্রমণ।
৩ ছেলে ও ২ মেয়ের পিতা জাফর মৃত আলম ফরাজীর পুত্র। বর্তমানে তাঁর সব খরচই নির্বাহ করেন সন্তানেরা।
পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসা নিয়ে ১ বছর পূর্বে পূর্ববর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মণির সাথে আলাপ হয় জাফরের। পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসা পেলে দীপু মণি তাঁকে ৩ হাজার ডলার দেবেন বলে প্রতিশ্র“তি দেন বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে ভারত, চীন, ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান ও সৌদি আরবে হজ্বের উদ্দেশ্যে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

Leave a Reply