Monday, September 24Welcome khabarica24 Online

পাকিস্তান-দ. আফ্রিকা টেস্ট সিরিজ ড্র

ডেস্ক নিউজ :

cri

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে যে হারের স্বাদ পাচ্ছে পাকিস্তান—তা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তৃতীয় দিনই। গতকাল চতুর্থ দিন ইনিংস হার এড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে পাকিস্তানিরা। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত আবুধাবিতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইনিংস ও ৯২ রানে হেরেছে পাকিস্তান। এই জয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় আনল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের প্রথম টেস্টে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। দু’দলের মধ্যকার পাঁচ ওয়ানডে ম্যাচ সিরিজ শুরু হবে ৩০ অক্টোবর থেকে। দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৯ রানে প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের। গ্রায়েম স্মিথের ডাবল সেঞ্চুরি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ৫১৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াসদের চেয়ে ৪১৮ রানে পিছিয়ে থেকে আসাদ শফিকের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ৩২৬ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিয়ান গ্রায়েম স্মিথ। সিরিজসেরার পুরস্কার ওঠে এবি ডি ভিলিয়ার্সের হাতে।
চতুর্থ দিন ৪ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মিসবাহ-উল হক এবং আসাদ শফিক দিনের শুরুতে ধরেই খেলছিলেন। কিন্তু সেঞ্চুরির পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি। দলীয় ২৬৭ রানে ভেঙে যায় মিসবাহ-আসাদ জুটি। এই জুটি ভাঙেন প্রোটিয়াস বাঁহাতি বোলার ডিন এলগার। তার বলে ক্যালিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মিসবাহ। আউট হওয়ার আগে ৬টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর আসাদ শফিককে সঙ্গ দিতে এসে বেশিক্ষণ উইকেট ধরে রাখতে পারেননি আদনান আকমল। দলীয় স্কোরে ১১ রান যোগ হতে না হতেই ইমরান তাহিরের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। চা বিরতির আগে আসাদ শফিক তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পান। ২৩৮ বল মোকাবিলা করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আসাদ। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর মোহাম্মদ ইরফানকে সঙ্গে নিয়ে প্রোটিয়াস বোলার বিপক্ষে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা ইনিংস হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ডুমিনির বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন আসাদ। সাজঘরে ফেরার সময় তার ব্যক্তিগত স্কোর দাঁড়ায় ১৩০ রান। ১৫টি চার ও একটি ছক্কার মারে এই ইনিংস সাজান আসাদ। আসাদ শফিকের ১৩০, মিসবাহের ৮৮ এবং ইউনিস খানের ৩৬ রান ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের অন্য কোনো ব্যাটসম্যান বড় রানের ইনিংস খেলতে পারেননি।
এর আগের ১৬টি চারের সাহায্যে ২৩৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে অবদান রাখেন গ্রায়েম স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ১৬৪ রানের ইনিংস খেলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের সফল বোলার সাঈদ আজমল। সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট পান তিনি। অন্যদিকে পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে দিতে অবদান রাখেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার ইমরান তাহির ও ডেল স্টেইন। ইমরান তাহির ৫টি এবং ডেল স্টেইন ৩টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান : প্রথম ইনিংসে-৯৯/১০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে-৩২৬/১০।
দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রথম ইনিংসে-৫১৭/১০।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৯২ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : গ্রায়েম স্মিথ।
সিরিজসেরা : এবি ডি ভিলিয়ার্স।
সিরিজ : ১-১ ব্যবধানে ড্র।

Leave a Reply