সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পাকিস্তানকে ৭৬ রানে হারালো ভারত

image_188221.kohli 100

 

বিশ্বকাপে পাকিস্তান কখনোই হারাতে পারে না ভারতকে। পারেনি কখনো। এই বাক্য যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেলো। অনেক হুঙ্কার করে, অনেক বাক্য খরচ করে, ইতিহাস বদলে দেবার ঘোষণা দিয়েও পাকিস্তান পারলো না। ১৯৯২ বিশ্বকাপ পাকিস্তান জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডেই। এবারও বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো সেখানে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালে তারপরও চিত্রনাট্যে পরিবর্তন নেই। ইতিহাস বদলানো হলো না পাকিস্তানের। দুই দলের সমর্থকে কানায় কানায় ভরা অ্যাডিলেড মাঠে ভারত প্রমাণ করে দিলো, বিশ্বকাপে আসলেই পাকিস্তান তাদের বিপক্ষে পারে না। তারা ৭৬ রানে হারালো পাকিস্তানকে। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩০০ রান করেছিলো ভারত। জবাবে, ৪৭ ওভারে ২২৪ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।কোহলির সেঞ্চুরি আর রায়না ও ধাওয়ানের ফিফটি ভারতের ইনিংসের সারাংশ। সেই সাথে আছে সোহেল খানের শেষটায় জ্বলে ওঠা। ৫ উইকেট শিকার। তারপর ৩০১ রানের টার্গেটে ছুটতে গিয়ে লক্ষ্যচ্যুত হতে বেশি সময় লাগেনি পাকিস্তানের। ইউনিস খান ওপেনিংয়ে ব্যর্থ। তারপর শেহজাদ ও হারিস সোহেলের ব্যাটে মনে হয়েছিলো কক্ষ্যপথেই আছে পাকিস্তান। ৬৮ রানের জুটিটা ভেঙ্গে দিয়ে পাকিস্তানকে বড় আঘাত হানেন অশ্বিন। সোহেল ৩৬ রানে ফিরেছেন। ২৪তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন পেসার যাদব। শেহজাদ (৪৭) ও মাকসুদ (০) নেই। এক রান পরই উমর আকমল শুন্য হাতে ফেরেন। ১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে কক্ষ্যপথ থেকে ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। এরপর আফ্রিদি আর অধিনায়ক মিসবাহ বানের জলে ভেসে যাওয়া ঠেকিয়েছেন। কিন্তু ২২ রান করে আফ্রিদির বিদায়ে প্রতিরোধের সব দায় চাপে একা মিসবাহর কাঁধে। ১৫৪ রানে সাত উইকেট হারানোর পর বোলারদের নিয়ে আর কি লড়বেন মিসবাহ? তিনি ফিফটি করেছেন। ততক্ষনে আশা শেষ হয়েছে পাকিস্তানের। আর ৭৬ রানে মিসবাহ বিদায় নিলে শেষ সবাই। শামি নেন চার উইকেট। আবার পরাজিত পাকিস্তান।এর আগে টসটা জিতেছিলেন এম এস ধোনি। ব্যাট করতে নামে ভারত। রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ানের জুটিটা জমেনি। তার আগেই সোহেল খান রোহিতকে (১৫) ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছেন ভারতকে। সেই ধাক্কা লাগাতার আঘাতে পরিণত করতে পারেনি পাকিস্তান। বরং ধাওয়ান ও কোহলির ব্যাটে স্বস্তির পথটা তৈরি করে বড় সংগ্রহের পথে হেঁটেছে ভারত। দ্বিতীয় উইকেটে দুই প্রান্ত থেকে দুজনে আক্রমণ করেছেন খুব সতর্কভাবে। তাতে পাকিস্তানের বোলারদের লাগাতার হতাশার সময় পার করতে হয়েছে। ১২৯ রানের জুটি গড়েছেন ধাওয়ান ও কোহলি। ধাওয়ান আরো বড় কিছু করতে পারতেন হয়তো। তেমন কথাই বলছিল তার ব্যাট। কিন্তু কোহলির সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ধাওয়ান ৭৬ বলে ৭৩ রানে বিদায় নেন।
ধাওয়ানের বিদায়ের পর ভারতের রানের গতিটা আরো বেড়েছে। এসেছেন সুরেশ রাইনা। এবং এসেই আগ্রাসী আক্রমণ চালিয়েছেন তিনি। সেই আক্রমণে পাকিস্তানি বোলারদের কখনো কখনো বোলিং ভুলে যাবার জোগাড় হয়েছে। তবে ১১৯ বলে ক্যারিয়ারের ২২তম সেঞ্চুরি করে আক্রমণে ফিরতে চেয়েছেন কোহলিও। ভাগ্যটা তাকে ছেড়ে যায় তার ১০৭ রানে। সেই সাথে ভারতের রানের গতিও কমতে থাকে। মনে হচ্ছিল শেষ ৫ ওভারে রান আরো বাড়বে। তাতে ৩২০ কিংবা ৩৩০ হবে। কিন্তু সোহেল খানের আঘাতে শেষ ৫ ওভারের ৫ উইকেট হারায় ভারত। কোহলি ও রাইনার ১১০ রানের জুটি ভেঙেছে কোহলির বিদায়ে। এরপর ৫৬ বলে ৭৪ রান করা রাইনাও হয়েছেন সোহেলের শিকার। সব মিলিয়ে শেষটায় নিজের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সোহেল ভারতের ইনিংসের শেষটায় পাকিস্তানের ফেরার গল্পটা লিখেছেন। তারপরও ভারতের গড়া ৩০০ রান নিশ্চয়ই এমন ম্যাচে নেহায়েত কম নয়!