শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পরিকল্পিত হত্যায় সরকার মেতে উঠেছে : রিজভী

image_177754.rijvi
বর্তমান সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীল নকশায় মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।  তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে জনসমর্থন দেখে দ্বিগবিদিগ জ্ঞানশূন্য হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা সুরক্ষিত করতে বর্তমান অবৈধ সরকার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গুম ও তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে পৈশাচিকভাবে হত্যা করছে।মঙ্গলবার বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।রিজভী আহমেদ বলেন, গতরাতে ঢাকা মহানগর খিলগাঁও থানা বিএনপি নেতা দিপু সরকারকে এবং সোমবার বিকালে যুবদল ওয়ার্ড সেক্রেটারি নুরুজ্জামান জনি ও মাইনুদ্দিনকে জেলগেট থেকে সাদা পোষাকধারীরা ধরে নিয়ে যায়। আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা মেডিকেলে জনির গুলিবিদ্ধ লাশ আবিষ্কৃত হলেও এখনও পর্যন্ত দিপু সরকার ও মাইনুদ্দিনের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বরাবরের মতো আজকেও সারাদেশে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায় এবং নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছত্রছায়ায় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাও নেতা-কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের অত্যাচার অতীতের সকল রেকর্ডকে ম্লান করেছে মন্তব্য করে রিজভী আহমেদ বলেন, নীলনকশার মাধ্যমে জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে বর্তমান অবৈধ সরকার দেশে যে ভয়াবহ দুঃশাসন চালিয়ে যাচ্ছে- তা অতীতের সকল স্বৈরাচারী দুঃশাসনের রেকর্ডকে ম্লান করে দিয়েছে। নড়াইল পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েসসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমান ও নোয়াখালীতে ছাত্রদল নেতাকে ইতোমধ্যে বন্দুক যুদ্ধের নামে বর্বর খেলা সংঘটিত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারী প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ভালভাবেই বুঝতে পারছে যে তাদের পক্ষে কোনো জনসমর্থন নেই, আর তাই তারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণের পাশাপাশি নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য এখন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অপহরণ করে গুম করতে শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক বিরোধী দলের কন্ঠ স্তব্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে নেতা-কর্মীদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে শাসকগোষ্ঠী।
দেশে এখন দ্বিতীয় বাকশালী শাসন চলছে জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, সব ধরনের অপকর্মই বর্তমান অবৈধ সরকারের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। অবৈধ ক্ষমতাসীনদের পরিচালিত গুম খুনের পাশাপাশি চরম দাম্ভিকতা এবং রাষ্ট্র শাসনে অন্যের মতামতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শণ দেশবাসীকে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
লক্ষ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চলছে। জনগণের অধিকার আদায়ের বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত দেশের ষোল কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে ২০ দলীয় জোট আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে রিজভী আহমেদ অবিলম্বে বিএনপি নেতা দীপু সরকার ও যুবদল নেতা মাইনুদ্দিনসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত নিখোঁজ নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে অপর এক বিবৃতিতে ২০ দলীয় জোট ঘোষিত ঢাকা ও খুলনা বিভাগে বুধবার সকাল ৬ টা থেকে ৪৮ ঘন্টা এবং কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় সকাল ৬ টা থেকে ৩৬ ঘন্টার হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য দেশবাসীসহ ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন রিজভী আহমেদ।