Thursday, May 23Welcome khabarica24 Online

দুবাইতে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহ্বান

974312_767225776655546_688187814_n_4076

 

কামরুল হাসান জনি, দুবাই

‘মানব পাচারকারী চক্রগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসহায় বেকারদের টার্গেট করে। বিভিন্ন ভাবে কাজের প্রলোভন ও অধিক অর্থ আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে ইউরোপ, ইতালি, গ্রিসের মতো দেশগুলোতে পাঠানোর নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য চরম হুমকি। কারণ এদের লেনদেনও হয় অবৈধভাবে। পানিপথ ব্যবহারকারী এসব চক্রের অবস্থান ইরানেই সবচেয়ে বেশি।’ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দুবাইয়ে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানালেন দুবাই সফররত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ মতিউর রহমান। তিনি বলেন, পাচারকারী চক্র এক দেশ থেকে অন্য দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভুক্তভোগীরা সোনার হরিণ পাবার লোভে তাদের ফাঁদে পা বাড়াচ্ছে। ওসব শ্রমিকদের আবার জিম্মি করে মোটা অংকের মুক্তিপণও দাবি করছে এসব অপরাধীচক্র। মুক্তিপণ দিতে না পারলে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে শারীরিক নির্যতন করে। এমন কি তারা হত্যা করতেও দ্বিধা করে না। এসব চক্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিক উৎসাহ দিয়ে থাকে। আর তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থাকা প্রবাসীরাও সর্তকতার সঙ্গে এসব অপরাধীদের তথ্য প্রদান করে মানবপাচার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখাতে পারে। দুবাই কন্স্যুলেট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে ব্যবস্থা নেয়া ও আলাদা তথ্য কেন্দ্র খোলার দাবি জানান প্রবাসীরা। এ প্রসঙ্গে দুবাই কন্স্যুলেটের কনস্যাল জেনারেল মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা জাতীয় স্বার্থ দেখেই এদের বিরুদ্ধে কাজ করবো। এসব চক্রের কোন ধরণের তথ্য পেয়ে থাকলে আমাদের জানান। এতে আমাদের কাজ করতে আরো বেশি সুবিধা হবে। এসময় তিনি মিডিয়া ও সংবাদকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন। ‘এসব চক্রের সন্ধান পেলে কিভাবে প্রশাসনকে জানানো যায়?’ প্রবাসীদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুবাই কন্স্যুলেটের কর্মাশিয়াল কাউন্সিলর ড.মাহমুদ-উল-হক বলেন, আপনারা সর্তকতার সঙ্গেই এসব তথ্য জানাবেন। পারলে তাদের ডেকে নিয়ে আসবেন কন্স্যুলেটে। প্রথমত আমরা তাদের সর্তক করে দেবো। তাতে কাজ না হলে আইনের হাতে তুলে দেয়া হবে। মতামত সভায় প্রবাসীরা বলেন, মানব পাচার ও মানব ব্যবসা দুটোই একটি অন্যটির সাথে সম্পৃক্ত। আর নারীদের এর জন্য বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্লিনার, হাউজমেট ভিসা গুলোতে নারী শ্রমিকরা এলেও দালালদের হাতে পড়ে তাদের বেশির ভাগই কাজের ক্ষেত্রে পৌঁছতে পারে না। দীর্ঘদিন চলতে থাকা এই প্রক্রিয়ার কোনো সুষ্ঠু সমাধানও হচ্ছে না। এর জন্য কন্স্যুলেট ও দূতাবাসকে অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করা দরকার। এমনকি দূতাবাস ও কন্স্যুলেটে এদের জন্য ‘সেফ হাউজ’ নির্মাণ করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের এমন পরামর্শের প্রেক্ষিতে কন্স্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, এখানে যেসব দেশের নারী শ্রমিকদের জন্য ‘সেফ হাউজ’ আছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান ও আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এক নয়। তবে ওই সব ভুক্তবোগীদের সহযোগিতা প্রদানে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টায় থাকে। এমনকি তারা বিদেশে আসার আগে ২১ দিনের যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাতে সব কিছু ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়। যখন কাজের ক্ষেত্রে তারা কোন সমস্যার সম্মুখীন হবে তখন দূতাবাস বা কন্স্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। নারী পাচার প্রসঙ্গে মতিউর রহমান বলেন, নতুন আইনে নারী পাচারকারীদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অতএব আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখুন।দুবাই কন্স্যুলেটে আয়োজিত উক্ত মতবিনিময় সভায় কমিউনিটির নেতা, সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।