সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

দুই প্রতিবেশীর লড়াই

image_192794_0.southi

 

প্রতিবেশীরা বন্ধু হয়। বন্ধুত্ব আছে বলেই বিশ্বকাপ মিলেমিশে আয়োজন করেছে। কিন্তু শনিবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে বন্ধুত্বের ছিটেফোটাও থাকবে না। থাকবে শুধু শত্রুতার স্মৃতি। লড়াইয়ের মন্ত্র জপবে দুই দল। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়বে না। বিশ্বকাপের দুই ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সেই লড়াকু মানসিকতায় মুখোমুখি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এটা দুই প্রতিবেশীর লড়াই। দুই বিশ্বকাপ আয়োজকের লড়াই।
তারা ফেভারিট। কিন্তু নিজেদের ফেভারিট হিসেবে উচ্চারণ করতে নারাজ দুই দলই। লড়াইয়ের ভেতরে অনেক লড়াই আছে এই ম্যাচে। ওয়ার্নার বনাম সাউদি ও বোল্ট, ম্যাককালাম বনাম জনসন ও স্টার্ক। এমন আরো লড়াই আছে বিশ্বকাপের দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির মধ্যে। শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে সহজেই হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের দরজায় দাড়িয়ে নিউজিল্যান্ড। জিতলেই প্রথম দল হিসেবে ঢুকে পড়বে শেষ আটে। আর অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১১১ রানে হারিয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে পরের ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে বৃষ্টির কারণে। কোয়ার্টার ফাইনালের দরজায় হাত রাখতে এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ারও দরকার জয়। আর যেমন খেলছে তারা তাতে নিউজিল্যান্ডকে কঠিন সময়ের স্বাদ পাইয়ে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্স খুবই ভালো। বিশ্বকাপের ফেভারিটও এই সহ আয়োজক দেশ। আর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটি নিয়ে গর্বিত অধিনায়ক ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। নিকট অতীতের পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বলেছেন, “গেল ১২ থেকে ১৮ মাসে আমরা যেভাবে খেলেছি, যেভাবে এগিয়েছি তাতে সম্মান আদায় করে নিতে পেরেছি। প্রত্যেক ম্যাচই জেতা যায় না। কিন্তু আপনি কিছু ব্যাপার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আমরা জয়ের জন্য মরিয়া একটি দল। আমাদের ভালো সুযোগ আছে।”
নিউজিল্যান্ড ফর্মে আছে বলেই শুধু নয়, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। মাইকেল ক্লার্ক খুব সতর্ক কণ্ঠেই বলছেন, “আমার ক্যারিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো সহজ ম্যাচ আমি মনে করতে পারি না। তা সে অস্ট্রেলিয়ায় খেলি কিংবা অন্য কোথাও। তারা সত্যিকারের কঠিন প্রতিপক্ষ।”
টানা চতুর্থ ম্যাচে অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে সবার উপরে থাকা টিম সাউদি বৃহস্পতিবার অনুশীলনের সময় কাঁধে ব্যথা পেয়েছিলেন। প্রথম অবস্থায় ভয় ধরানো ছিলো সাউদির প্রতিক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত জানা গেছে সাউদির আঘাত গুরুতর নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার খেলা নিয়েও কোনো সংশয় নেই। কিন্তু টানা চার ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন না আসায় দলের বাকি তিন খেলোয়াড়ের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন অধিনায়ক ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। বলেছেন, “না খেলাটা কষ্টের। কিন্তু তারা সবাই নিবেদিত প্রাণ। কোনো না কোনো সময় খেলার সুযোগ মিলবে।”বাংলাদেশের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে ফেরা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন ক্লার্ক। আর তাকে জায়গা করে দিতে একাদশ থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে জর্জ বেইলিকে। অস্ট্রেলিয়া দলে আরেকটি পরিবর্তন আসার কথা। ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্সকে খেলানোর কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া। তাকে দলে টানলে দল থেকে সরে দাঁড়াতে হবে জশ হ্যাজলউডকে। স্পিনার জাভিয়ের ডোহার্টির এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা কম।
নিউজিল্যান্ড দল: মার্টিন গাপ্তিল, ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম (অধিনায়ক), কেন উইলিয়ামসন, রস টেলর, গ্র্যান্ট ইলিয়ট, কোরে অ্যান্ডারসন, লুক রঞ্চি, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, অ্যাডাম মিলনে, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট।
অস্ট্রেলিয়া দল: ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, শেন ওয়াটসন, মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল মার্শ, ব্র্যাড হ্যাডিন, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড/প্যাট কামিন্স।