শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

তালেবান হত্যাযজ্ঞে রক্তাক্ত পাকিস্তান, নিহত ১৩১

students_50329_50340

 

পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি স্কুলে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। এ হামলায় অন্তত ১৩১ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। এ স্কুলটি সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুল।পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা জানান, অন্তত ছয়জন বন্দুকধারী এ স্কুলের দেয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে। মূলত তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ছদ্মবেশে ঢুকে এ হামলা চালায়। স্কুলটির ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৫০০। নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, স্কুলটির বেশির ভাগ ছাত্রকে উদ্ধার করা গেছে। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জঙ্গিরা এ হত্যাযজ্ঞ চালায়।এদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সন্ধ্যার মধ্যে ছয় বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তালেবান জঙ্গিরা যখন স্কুলটি আক্রমণ করে, তখন সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দল স্কুলছাত্রদের ফার্স্ট এইডের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। খবর, ডন, এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা।তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের ঘাঁটি জার্ব-ই-আজবে চলমান সেনা অভিযানের প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি এএফপিকে জানান, হামলাকারীরা সংখ্যায় ছয়জন। হামলাকারীদের স্কুলের বড় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের ওপর গুলি না ছোড়ার কথা বলা হয়েছে। স্কুলটি পাকিস্তানের আর্মি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত। পাকিস্তানজুড়ে এমন ১৪৬টি স্কুল আছে। সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করে। এখানকার শিক্ষার্থীদের বয়স ১০-১৮ বছর। স্কুলটির শিক্ষকদের বেশির ভাগ সেনাসদস্যের স্ত্রী। এদিকে পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কুলের একজন কর্মচারী মুদাচ্ছির আওয়ান জানান, ছয় থেকে সাতজন বন্দুকধারীকে তিনি হামলা চালাতে দেখেছেন। জঙ্গিরা স্কুলের ভিতরে ঢুকেই গুলি করতে শুরু করে। ‘গুলির শব্দ শুনে আমরা ক্লাসরুমের দিকে ছুটে যাই। ওরা প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে ঢুকে ছাত্রদের হত্যা করছিল।’ স্কুলটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খায়বার-পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে ক্ষমতায় আছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। ইমরান খান খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জিম্মিদের উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ২টার দিকে পেশোয়ারের উদ্দেশে রওনা হন। এক বিবৃতিতে তিনি জিম্মি হওয়া শিশুদের নিজের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন। তাই তিনি তাদের উদ্ধারে চালানো অভিযান নিজেই তদারকি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের চিকিৎসক শিরফ খান জানান, তাদের কাছে দুপুরের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ এসে পৌঁছেছে। আহত ৩৫ জনকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজন ওই স্কুলের শিক্ষক। চিকিৎসাধীন দুই চিকিৎসকের বরাত দিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা ইজাজ খান বলেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পেশোয়ারের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালগুলো ‘ও নেগেটিভ’ রক্ত দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষক জানিয়েছেন, হামলাকারীরা হামলার জন্য পরীক্ষার সময়কে বেছে নিয়েছে। বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে ওই শিক্ষক বলেন, হামলার আধা ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গোলাগুলির পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলছে, স্কুলের ৫০০ শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশকে তারা বের করে আনতে পেরেছে। গুলিতে সব জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্র্রতিককালে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযানে শত শত তালেবান নিহত হয়। জার্ব-ই-আজব নামের ওই অভিযানে কমপক্ষে ১ হাজার ৬০০ তালেবান নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযানে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়ে তালেবান। এর প্রতিশোধ নিতে এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তারা।নিন্দা জানালেন শেখ হাসিনা : এদিকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি স্কুলে তালেবান জঙ্গিদের হাতে শতাধিক স্কুলছাত্রসহ নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল জানান, বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বর্বর ও ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড সারা বিশ্বের মানুষকে শোকাহত ও স্তম্ভিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী এ হামলায় নিহত লোকজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।খালেদা জিয়ার নিন্দা : এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে পেশোয়ারে জঙ্গি হামলায় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীসহ ব্যাপকসংখ্যক নিরস্ত্র মানুষের প্রাণহানিতে নিন্দা জানিয়েছেন।