শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১৪ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

তামিমের নাটকীয় পদত্যাগ

10628_s3

 

চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তামিম ইকবাল জন্ম দিলেন নতুন নাটকের। জানা যায়, সহ-অধিনায়ক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিসিবির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ইনজুরিতে থাকায় টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের আগে জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের পরিবর্তে তামিম ইকবালের নাম ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত অধিনায়কের পরিবর্তে সহ-অধিনায়কের হাতে নেতৃত্ব থাকার কথা ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি মাশরাফিকেই বেছে নেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘আসলে তামিম ইকবালের ওপর চাপ না দিতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক করা হয়েছে মাশরাফিকে। আমরা (বিসিবি) চেয়েছিলাম তামিম ইকবালের ব্যাটিংয়ে যেন চাপ না পড়ে।’ তামিম ইকবালের পদত্যাগপত্রের বিষয়ে জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমরা শুনেছি সে পদত্যগপত্র দিয়েছে। কিন্তু তা আমরা এখনও হাতে পাইনি। তবে এটা বলতে পারি, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না-ও হতে পারে।’ তবে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতেই সহ-অধিনায়ক পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে চাই।’
প্রধান নির্বাচক ফারুক আহম্মেদ তামিমের পদত্যাগ নিয়ে বলেন, ‘অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক নির্বাচন করে বিসিবি। এ বিষয়টিতে আমাদের কোন হাত নেই। যে কারণে এর সঠিক উত্তর বিসিবিই দিতে পারবে।’ তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তামিম ইকবালের এমন পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার ঘটনাটি ঠিক হয়েছে কিনা এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি ফারুক আহম্মেদ। এছাড়াও এ বিষয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচক, বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক, ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান ও তামিম ইকবালের চাচা আকরাম খান বলেন, ‘আমি শুনেছি ও বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে। যতটুকু জানি নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেয়ার জন্যই ও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তবে তামিম ইকবালের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কিনা আর সিরিজের আগে এমন একটি সিদ্ধান্ত দলের উপর প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘আসলে অধিনায়ক ও সহঅধিনায়ক নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বোর্ডের এখতিয়ার। এটি আমাদের একক সিদ্ধান্ত নয়। তাই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কিনা তা বোর্ডই বলতে পারে। আর মনে হয় না তেমন কিছু প্রভাব পড়বে।’
গত ২৩শে জানুয়ারি তামিম ইকবালকে দ্বিতীয় বারের মতো সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয় বিসিবি। এর আগে সাকিব আল হাসানের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু ২০১১ সালে জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থতার পর তাদের দু’জনকে সরিয়ে দেয়া হয় অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে। তামিম ২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক হয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে চট্টগ্রামের এ তরুণ ক্রিকেটার এ পর্যন্ত ৩০টি  টেস্ট, ১২৪টি ওয়ানডে ও ২৬টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন।

 

উৎস- মানবজমিন