মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

জিয়া হত্যায় শেখ হাসিনা জড়িত কিনা জনমনে প্রশ্ন রয়েছে

26463_b4

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জড়িত ছিলেন কিনা জনমনে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, আজকের স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরে আসেন। আর ৩০শে মে শহীদ হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, শেখ হাসিনাও এ হত্যায় জড়িত ছিলেন কিনা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে জিয়া হত্যার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। আগের দুই দফা ক্ষমতায় থাকাকালে তদন্ত কেন হয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তখনও কিছু তদন্ত হয়েছিল। এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। আজ দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের যৌথসভায় বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন। না হলে তিনিও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি থাকতেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়ায় যদি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি হতে পারেন, তাহলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার মোশ্‌তাকের মন্ত্রিসভায় যারা যোগ দিয়েছিলেন যারা সবাই আওয়ামী লীগের ছিলেন, তারা কেন আসামি হবেন না? শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে একে খন্দকার, কেএম সফিউল্লাহকে মন্ত্রী বানালেন। তাহলে কি বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে শেখ হাসিনাও জড়িত ছিলেন? মির্জা আলমগীর বলেন, ভোট ছাড়া নির্বাচিত এ স্বঘোষিত সরকার সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। সারা দেশে খুন, গুম ও অপহরণের কারণে মানুষ আজ নিরাপত্তানীহনতায় ভুগছে। সরকারের অপকর্মে যখন জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী এ অসত্য বক্তব্য সামনে নিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিএনপি খুব একটা বিচলিত নয়। কারণ দেশবাসী জানে শেখ হাসিনা এভাবে মিথ্যা কথা বলতে অভ্যস্ত। এটা তার স্বভাবগত সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কাচের ঘরে বসে অন্যের ওপর ঢিল ছুড়বেন না। ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবেন না। দেশবাসী জানে আপনার পিতা বাকশাল কায়েম করেছিলেন আর আপনি ভোট ছাড়া সরকার গঠন করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনও জিয়া পরিবারকে সহ্য করতে পারেন না। এ জন্য তিনি এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। বিএনপির রাজনীতি এবং জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চলছে। বর্তমান অবৈধ সরকার বাংলাদেশ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, যা কখনও সফল হবে না। জিয়া এ দেশের মানুষের হৃদয়ে ভাস্বর হয়ে থাকবেন চিরদিন। তিনি বলেন, সরকার বাজেট দেয়ার আগে আমরা বাজেট নিয়ে ভাবনা দিই। কিন্তু এ বছর কোন বাজেট ভাবনা দেবো না। কারণ, এ অবৈধ সরকারকে কিসের বাজেট ভাবনা দেবো? সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, এডভোকেট আহমেদ আজম খান, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।