রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৯ ফাল্গুন ১৪২৭খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার নিয়ে চেন্নাইতে বিজয় দিবস উদযাপন করলো পিতা-পুত্র


সাইফুর রহমান সবুজ :: হাসপাতালের বিছানায় ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে বিজয়ের নিশানা লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেশপ্রেমিক বাবা-পুত্রের “বিজয়” উদযাপন। এমন এক অভূত মূহুর্তের স্বাক্ষী ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থিত সিএমসি হসপিটাল। দক্ষিন এশিয়ার লোহমানব জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লাখো লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পেয়েছে বিজয়। সে থেকে বাঙালি জাতী প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করে আসছে।
বলছি মীরসরাই উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান সংগ্রামী সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন চোধুরী মাসুদ এর ছেলে ছালেহ মারওয়ান চৌধুরীর কথা। ছেলেটির বয়স মাত্র ৪ বছর। হাসি খুশি প্রাণচঞ্চল ছিল ছোট সুখের পরিবারটি। কিন্তু হঠাৎ এক আচমকা ঝড়ে সব যেন এলোমেলো হয়ে গেল, ডাক্তারের মুখ থেকে খবর এলো ছোট্ট বাবু ছালেহ মারওয়ান চৌধুরী দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। ডাক্তার সকল পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করার পরামর্শ দিলেন। এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেই গত অক্টোবর মাসে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতে নিয়ে চেন্নাইয়ের সিএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পুনরায় ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কেমোথেরাপি ও অস্ত্রপ্রচার করতে হবে বলে জানান। বর্তমানে তার কেমোথেরাপি চলছে। এরই মধ্যে আসে ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। বাবা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মাসুদ এর দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা পেয়ে ছালেহ মারওয়ান চৌধুরীও বিজয় উদযাপন করতে ইচ্ছ পোষণ করে। দেশপ্রেমিক বাবা ১৬ই ডিসেম্বর ২০২০ ইং ডাক্তার থেকে অনুমতি নিয়ে ছেলে ছালেহ মারওয়ান চৌধুরীর সাথে ভারতের চেন্নাই সিএমসি হাসপাতালের বেডে বিজয় উদযাপন করেন।
১৬ই ডিসেম্বর বাবা ছেলের বিজয় উদযাপন করে তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মাসুদ তার ফেইসবুকে ছবিগুলো প্রকাশ করেন। তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল- ভারতের মাটিতে ক্ষুদে বাঙালীর মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও একজন পিতার- অন্যরকম অনুভূতি।
আজ মহান বিজয় দিবস। এবারেই প্রথম মহান বিজয় দিবসে প্রিয় মাতৃভূমির বাইরে অবস্থান করছি।নিজ দেশে থাকা অবস্থায় প্রতিটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সফলতার সাথে জাতীয় দিবস গুলো পালন করেছি।কিন্তু এবার ভারতের মাটিতে বসে আমাদের অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করছি। যদিও কোন স্বাধীন দেশে ভিন্ন দেশের পতাকা উত্তোলন বিধি সম্মত নয়,তথাপিও ডক্টরস রুমে গিয়ে বুঝিয়ে বলেছি যে-“আজ বাঙালীদের মহান বিজয় দিবস। বঙ্গবন্ধুর আহবানে এই বিজয় আনার জন্য বাংলার স্বাধীনতাকামী ৩০ লক্ষ মানুষ বুকের রক্ত দিয়েছেএবং ২ লক্ষ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। একজন বাঙালী হিসেবে মহান এই দিবসটি আমি আমার ছেলেকে নিয়ে উদযাপন করতে চাই”। ডক্টরস রুম থেকে আমাকে প্যাডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টের প্রধানের বরাবরে লিখিত অনুমতির পরামর্শ দিলেন।প্যাডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডঃ অমিতা জ্যাকবকে লিখলাম-
Dear Sir, Good Evening.
It’s known to you, 16 December is our victory Day. I am interested to observe it with my dearest child. My child isn’t able to participate in this great gathering of the Bengali nation due to medical reasons. I would be grateful to the authorities for giving the opportunities to celebrate victory Day with special arrangements. It’s to be noted that India’s position on the side of Bangladesh on this victory Day.

Thanks.
Regards,
Masud Chowdhury.
Father of Saleh Marwan Chowdhury.

মহান বিজয় দিবস পালনে আমার তীব্র আকাংখা দেখে ডাক্তার হাসলেন এবং ২০ মিনিটের জন্য মৌখিক অনুমতি দিলেন।কিন্তু ছেলেকে হাসপাতালের বেড থেকে কোলে নিয়ে যখনই রওয়ানা করবো ঠিক তখনই নার্সরা আপত্তি করলো যে-পেশেন্টকে কোনভাবেই বাইরে নেওয়া যাবেনা। যা হোক ডাক্তারের অনুমতির সত্যতা প্রমান সাপেক্ষে অনেক-অনেক কষ্টে বুঝিয়ে অবশেষে রাজি করালাম। আমাদের ছেলেকে নিয়ে লাল সবুজের পতাকা যখন উড়িয়েছি, কি যে এক অন্যরকম অনুভূতি ও ভাললাগা সেটি লিখে কিংবা বলে বুঝানো অসম্ভব। আমাদের ছেলেকে জাতীয় পতাকার প্রতি সন্মান প্রদর্শন করতে শিখিয়ে দিলাম আর আমি-
“আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাস
আমার মনে বাজায় বাঁশি”।
গুনগুন করে যখন গাইছি, কখন যে খুশিতে দু’চোখ ভিজে গেছে বুঝতেই পারিনি।
এই মহান বিজয় দিবসে আমাদের ছালেহ মারওয়ান চৌধুরীর সূস্থ্যতার জন্য মহান আল্লাহর রহমত ও সকলের দোয়া কামনা করছি।