শুক্রবার, ৫ আগস্ট ২০২২, ২১ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

গ্রুপ ফোরের তিন কোটি টাকা চুরির মূলহোতা গ্রেফতার

G4

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সি গ্রুপ ফোরের সিকিউরিটির চট্টগ্রামের খুলশী কার্যালয় থেকে ৩ কোটি টাকা চুরির মূল হোতা শহীদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৭) সদস্যরা।আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে তাকে রাঙ্গামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।  এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে গ্রুপ ফোরের চুরি যাওয়া ৩ কোটি টাকা উদ্ধার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। রবিবার এই টাকা চুরি হয়। নগরীর অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে গ্রুপ ফোর এসের কার্যালয়টি অবস্থিত। রবিবার ভোরে কার্যালয়ের ভল্ট থেকে নকল চাবি দিয়ে ৩ কোটি টাকা চুরি করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি মামলা দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা তারিক মনসুর। সোমবার ভোরে কার্যালয় থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ৩ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে শহীদুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। আটককৃতরা হলেন- গ্রুপ ফোর এসের স্টোর কিপার ইকবাল বিন রশীদ, ভোল্ট অপারেটর রবিউল হোসেন ও সিকিউরিটি গার্ড রফিকুল ইসলাম।

গ্রুপ ফোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকাপয়সা নিরাপদে পরিবহন করে। তাদের ভল্টে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্ডার মোতাবেক প্রাপ্ত টাকা সংরক্ষিত থাকে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ঘেরা পুরো অফিসে সার্বক্ষণিকভাবে একজন ফ্রন্ট ডেস্ক অপারেটর আছেন। তার কাছে ভল্টের চাবি থাকে এবং ভল্টের সিকিউরিটির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে দু’জন নিরাপত্তারক্ষী থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ম্যানেজার তারেক মনসুর জানান, ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আরমান ওই ভল্টে ৩০ কোটি টাকা গচ্ছিত রাখেন। এরপর ভল্টে মোট জমা টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ কোটি টাকা।
১১ অক্টোবর রাত ১০টার সময় ভল্ট অফিসার জসিম উদ্দিন ও তোফাজ্জল হোসেন ভল্টের টাকা হিসাব করে ৫৪ কোটি টাকা দেখতে পান। কিন্তু ১২ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টার দিকে বদলি ভল্ট অফিসার নিজাম ‍উদ্দিন ও আবুল আরমান ফজলুল করিম ভল্ট খুলে হিসাব করে তিন কোটি টাকা কম দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তারা শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানান।
এরপর কর্মকর্তারা সবাই মিলে ভল্টের টাকা হিসাব করে তিন কোটি টাকা কম দেখতে পান। এর মধ্যে রোববার সন্ধ্যার দিকে ভল্টের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, রোববার ভোর ৪টা ৫ মিনিটে মুখোশধারী এক লোক চাবি দিয়ে ভল্টের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় টাকা ভর্তি করে বের হয়ে যায়