সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

খালেদাকে মানুষ হত্যার লাইসেন্স কেউ দেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

10959531_10152703710354537_7001681104281942102_n_62236

 

আর একটি পোড়া মানুষও যেন বার্ন ইউনিটে ভর্তি না হয় এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদাকে মানুষ হত্যার লাইসেন্স কেউ দেয়নি। তিনি যা করছেন তা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। বিশ্বে জঙ্গিবাদের শাস্তি যেভাবে হয় সেভাবেই শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত এখন জঙ্গি রূপ ধারণ করেছে। এদের থামাতে যত কঠোর হওয়া প্রয়োজন ততটাই কঠোর হবো।আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে দেশব্যাপী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালের নামে চলমান সহিংসতা ও পেট্রলবোমায় দগ্ধদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আহত প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান তুলে দেন। পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এই অনুদান দেওয়া হয়।ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে অবরোধ সমর্থকদের আগুনে দগ্ধ হয়ে ৫৩ জন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে চিকিৎসা শেষে ঘরে ফিরে গেছেন ৬৩ জন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীকে মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স কেউ দেয়নি। দুই বছরের শিশুর ওপরও বোমা হামলা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আর তিনি গুলশানে আরাম আয়েশে থেকে মানুষ পোড়ানোর হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। এটা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জঙ্গিবাদের শাস্তি যেভাবে হয় আমরা তার সেভাবেই শাস্তির ব্যবস্থা করবো।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা হত্যাকারী। ওরা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে। আর হত্যাকারীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হতে পারে না। আমি তার (খালেদা জিয়া) ছেলের মৃত্যুর পর গিয়েছিলাম সহানুভূতি জানাতে। কিন্তু আমাকে তার বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। আমাকে অপমান করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন রাস্তায় নামছে তাদের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। অথচ তারা এসব মানুষকে পুড়িয়ে উৎসব করছে। নিশ্চই খালেদা জিয়ার মানসিক বিকৃতি ঘটেছে। আর জামায়াত তার দোসর। ওদের কোনও মনুষত্ব, দয়ামায়া নেই। নইলে এভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারতো না।তিনি বলেন, যারা সংলাপের কথা বলে তারা আগে সন্ত্রাস বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন এটাই প্রত্যাশা করবো। খুনির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়, এই ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ হত্যার খেলা আগে বন্ধ করতে হবে।জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এটাই চরিত্র। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকেই তারা একই ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতা চালিয়ে আসছে। এখনো চালাচ্ছে।দেশবাসীই এখন বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিরোধ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বোমাবাজদের যারা ধরিয়ে দিতে পারবেন তাদের আমরা পুরস্কৃত করবো। যারা বোমা বানায়, সরবরাহ করে, মারে এবং হুকুম দেয় তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিএনপি নেত্রীর কর্মকাণ্ড ও কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জল্লাদের খবর প্রচার না করাই ভালো। এদের খবর প্রচার না হলে টেলিভিশন কি চলবে না?গত ছয় বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ শিক্ষা, অর্থনীতি, চিকিৎসাসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতে আর কোনও সরকারের আমলে দেশে এত উন্নয়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।