Saturday, September 21Welcome khabarica24 Online

ক্রেতার অভিযোগ দাম বেশি বিক্রেতা বলছেন কম

3_155752

সাদ আহম্মেদ। বাড়ি কুষ্টিয়ার পোড়াদহ। তিনি দুটি বড় আকারের গরু এনেছেন গাবতলী হাটে। একেকটি গরুর দাম চাইছেন ১২ লাখ টাকা। পশুর হাটের গেটে প্রবেশের আগেই চোখে পড়ে দৈত্যাকার গরু দুটি। দৃষ্টিনন্দন গরু দেখার জন্যও ভিড় লেগে আছে দর্শনার্থীদের। অনেকেই জানতে চাইছেন ‘ভাই দাম কত?’ দাম বলতে বলতে মালিকের মুখ ব্যথা হওয়ার উপক্রম। তিনি জানান, হাটের বাইরে অস্থায়ী ঘরের বাঁশের খুঁটিতে গরু দুটি রেখেছেন তিনি। খঁটির ভাড়া হিসাবে তাকে গুনতে হবে ১৬ হাজার টাকা।
কুষ্টিয়ার হালসা থেকে ৩টি গরু হাটে তুলেছেন জনি নামে অপর এক কৃষক। তিনি বলেন, ‘একেকটি গরুর জন্য ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল জায়গার মালিক। অনেক মিনতি করার পর ৮ হাজার টাকা করে রাজি করিয়েছি। তিনটি গরুর জন্য ২৪ হাজার টাকা দিতে হবে। গরু বিক্রির সঙ্গে সঙ্গেই এই টাকা নিয়ে নেয়া হবে। এভাবেই চৌহদ্দির বাইরে অবৈধভাবে হাট বাড়িয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। খুঁটি প্রতি এক হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। এছাড়া উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের হাট, যাত্রাবাড়ীর দনিয়া শনির আখড়ার হাট, বাড্ডা থানাধীন ইন্দুলিয়া-দাউদকান্দি-বাঘাপুর এলাকার হাট ও আগারগাঁও পশুর হাটসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাট নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে অবৈধভাবে বাড়ানো হয়েছে। ফুটপাত, রাস্তা এলাকার অলিগলি দখল করে পশু রাখা হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর সব ক’টি পশুর হাটে বেচাকেনা বেড়েছে। হাটে নামতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন এবার দাম অনেক চড়া।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা হাটে গিয়ে পশুর দরদাম করছেন। দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, দাম বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, পোষায় না তাদের। গরুর দাম কম। কারণ ট্রাকের ভাড়া অনেক বেশি। ঢাকার বাইরে থেকে ট্রাকে গরু আনতে রাস্তায় পুলিশ ও স্থানীয় ক্যাডারদের চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া গো-খাদ্যের অতিরিক্ত দামের কারণেও গরুর দাম বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার খিলগাঁও মেরাদিয়া বাজার হাটে গিয়ে দেখা যায় বিপুলসংখ্যক গরু-ছাগল তোলা হয়েছে। ক্রেতা শিউলী আক্তার তার ছেলেকে নিয়ে গরু কিনতে এসেছেন। সকাল থেকে গরু দেখছেন। দুপুর ৩টার দিকে ৫৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন তিনি। যুগান্তরকে বলেন, এই সাইজের গরু তিনি এ হাট থেকে কিনেছিলেন ৩৮ হাজার টাকায়। এবার দামটা একটু বেশি বলে জানান তিনি। হাটের ইজারাদার এবিএম আহম্মদ উল্লাহ বলেন, হাটে বেচাকেনা মোটামুটি শুরু হয়েছে। হাট ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকলেও হাসিল ঘরের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য দুজন করে পুলিশ সদস্য দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের হাটের পরিচালনা কমিটির সদস্য আসলাম উদ্দিন বলেন, তাদের হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্রেতাদের ভিড় জমেছে বলে জানান তিনি।
খুঁটির ভাড়া ৮ হাজার টাকা : গাবতলীর স্থায়ী হাটের পূর্ব পাশে বেড়ি বাঁধের পাশ দিয়ে দ্বীপনগর পর্যন্ত লাল-হলুদ রংয়ের অসংখ্য শামিয়ানা টাঙিয়ে গরু রাখার জায়গা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব জায়গা ভেদে খুঁটি ভাড়া অর্থাৎ একটি গরু রাখতে ১ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে গরুর মালিককে। ইট-বালুর ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর হাটের কয়েকদিন ব্যবসা বন্ধ করে শামিয়ানা টাঙিয়ে অস্থায়ী ঘর করে জায়গা ভাড়া দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দ্বীপনগরের একটি জায়গা ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন জনৈক নুর নবী। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি যুগান্তরকে জানান, তিনিসহ চারজন মিলে ইট-বালুর এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাটের ক’দিনের জন্য জায়গা ভাড়া নিয়েছেন। ওই জায়গায় ১২০টি খুঁটি পুঁতেছেন। টাঙিয়েছেন শামিয়ানা। একটি গরু রাখতে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। মেহেরপুরের গাংনী থেকে ১৯টি গরু এনেছেন বেপারি এনামুল। তিনি বলেন, বাইরের জায়গার ভাড়া বেশি। ভেতরের জায়গার ভাড়া কম। তিনি ১৯টি খুঁটির ভাড়া দিচ্ছেন ১৯ হাজার টাকা। সরেজমিন দেখা গেছে, গাবতলী স্থায়ী পশু হাটের পূর্ব পাশ থেকে দ্বীপনগর পর্যন্ত (বেড়িবাঁধে) অবৈধভাবে হাট বর্ধিত করা হয়েছে। অবাক হলেও সত্য যে, প্রকাশ্যে বেড়ি বাঁধে এভাবে শত শত শামিয়ানা টাঙিয়ে অবৈধভাবে হাট বর্ধিত করা হলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী হাটের পাশে হাট বর্ধিত করার বিষয়টি তারা জানেন না।
মূল হাটের বাইরে শামিয়ানা টাঙিয়ে গরু রাখতে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের পরিচালক রাকিব ইমরান যুগান্তরকে বলেন, ‘ওটা হাটের বাইরের বিষয়। ওই জায়গা হাটের না।’
এদিকে উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের হাটটি নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশ এলাকা ও রাস্তার ফুটপাতে উঠেছে। ৬ নম্বর সেক্টরে রাজউক কলেজ ও আবাসিক এলাকাজুড়ে এবং ৪ নম্বর সেক্টরের ১৬, ২০, ২০/১ ও ১৩ নম্বর সড়কেও হাট বসানো হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। অপরদিকে দনিয়া শনির আখড়া হাটটি সীমানা ছাড়িয়ে দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভেতরও বসানো হয়েছে। মহাসড়কের পাশেও খুঁটি পুঁতে গরু বাঁধা হয়েছে। এতে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বাড্ডা থানাধীন ইন্দুলা-দাউদকান্দি-বাঘাপুর অস্থায়ী হাটটি মেরুল-বাড্ডা-আফতাবনগর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।