Tuesday, November 20Welcome khabarica24 Online

একমাত্র সনত্মান

kobita

॥ মনির হোসেন সাগর ॥

রাসেল, শুভ, রিয়াজ এবং রনি। ওরা চারজন অনেক ভালো বন্ধু। ওরা একই সাথে পড়াশুনা করে। যদিও সবাই পড়ালেখায় ভালো, তবুও রনি সবচেয়ে ভালো। ও ক্লাসে সবসময় আসে এবং পড়াশুনাও ঠিকভাবে শেষ করে। রাসেল, শুভ ও রিয়াজ ঠিকভাবে স্কুলে আসেনা। তারপরও পড়াশুনায় ওরা ভালো। ওরা ঠিক মতো ক্লাস না করলেও রনি কখনোই ক্লাস ফাঁকি দিত না। কারণ তার বাবা-মা সবসময় তার খেয়াল রাখে। কারণ তাঁদের একটি মাত্র সন-ান রনি। সেজন্য তাঁদের ইচ্ছা ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে রনি বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকে। তার বাবার স্বপ্ন রনি ডাক্তার হয়ে গরীব-দুঃখী মানুষের সেবা করবে। সেজন্য তার বাবা তাকে ভালোভাবে পড়াশুনা করতে উপদেশ দেন। সেও বাবা-মার স্বপ্ন বাস-বায়ন করতে ভালোভাবে পড়াশুনা করতে থাকে।

একদিন তারা চার বন্ধুসহ আরো কয়েকজন ক্রিকেট খেলছে। হঠাৎ সবাই খেলা বন্ধ করে রাসেলের কথা শুনতে ওর কাছাকাছি চলে আসে। তারপর রাসেল সবাইকে মহামায়া লেকের কথা বলে, লেকের সচ্ছ পানির কথা বলে, পার্শ্ববর্তী মনোরম প্রাকৃতিক ঝর্ণার কথা বলে। তখন কয়েকজন রাজি হয়। কিন’ রনি রাজি হয় না। সে বলে তার বাবা যদি জানতে পারেন তাহলে তাকে অনেক বকাবকি করবেন। তখন রাসেল বলে তোর বাবা জানবেন না। আমরা সবাই শনিবার স্কুলে আসার কথা বলে আসব। তারপর বইখাতা কোথাও রেখে আমরা মহামায়ায় ঘুরতে যাব। আবার স্কুল ছুটি হওয়ার আগে ফিরে আসব। তারপরও রনি রাজি হয় নি। অনেক জোরজবসি- করে পরে তাকে রাজি করায় বাকি তিন বন্ধু। তারপর সবাই যাওয়ার দিন ও ক্ষণ ঠিক করল। তারপর পূর্বের কথামতো সবাই শনিবারে স্কুলের পেছনের যেতে যেতে তারা অনেক আনন্দ করে। সবাই বাগানে আসে।সেখানে তাদের বইখাতা রেখে খড়কুটা দিয়ে ঢেকে দেয়। অতপর সবাই একটি সিএনজি নিয়ে মহামায়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সিএনজিতে করে  মনের আনন্দে গান গাইতে গাইতে মহামায়ায় পৌঁছে যায়। সিএনজি থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে প্রথমে তারা পাহাড়ের উপর উঠে। সেখানে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে। তারপর পাহাড় থেকে নেমে সবাই কলারুটি খায়। তারা সবাই কিছু টাকা রেখে দিয়েছে নৌকায় চড়বে বলে। কেননা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পানির স্রোতধারা এবং ঝর্ণা দেখলে যেন মহামায়ায় আসা বিফলে যাবে। তারা নাস-া খেয়ে সবাই নৌকায় চড়ার জন্য যায়। নৌকায় চড়তে চড়তে পাহাড়ের অবিরাম ঝর্ণাধারা, পানির নিদারুণ বয়ে চলা দেখতে থাকে। অনেক আনন্দের সাথে তাদের ভয়ও করে। সব দেখতে দেখতে তারা যখন নৌকা নিয়ে লেকের পাড়ের কাছাকাছি চলে আসে প্রায় ১০০ হাত দূরে থাকতে তারা সিদ্ধান- নিল যে তারা সাঁতরিয়ে পাড়ে যাবে। তারপর তারা নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সবাই লেকের জলে নামে। সাঁতার দেয় পাড়ে উঠার উদ্দেশ্যে। একসময় পাড়ে উঠেও যায়, কিন’ রনি কই! সবাই  এসেছে শুধু রনি ছাড়া। তিন বন্ধু পাগলে মতো খুঁজতে থাকে রনিকে। চিৎকার দিতে থাকে প্রিয় বন্ধুর নাম ধরে। চিৎকার শুনে ঘটনাস’লে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। সবাই জানলে কিন’ কেউ আন্দাজ করতে পারলো না রনির কী হয়েছে। সবাই খুঁজতে শুরু করলো, কিন’ কেউ খুঁজে পেল না রনিকে। এদিকে স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। কিন’ রনি বাড়ি ফিরছেনা। তার বাবা-মা অনেক দুশ্চিন-া করতে লাগলেন। তারপর রনির মা তার বাবাকে বললেন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানতে। স্কুলে গিয়ে রনির বাবা জানতে পারেন রনি স্কুলে যায়নি। তারপর ক্লাসের সহপাঠীদের কাছ থেকে জানতে পারেন ওরা চার বন্ধু মিলে পার্কে গিয়েছে। এদিকে হাজার হাজার মানুষও রনির কোন খোঁজ পেল না। তখন মহামায়ার আসা রনির বন্ধুরা তার বাবাকে ফোন করে সব বলে। তিনি দেরী না করে রনির মাকে নিয়ে ছুটে যান মহামায়ার তীরে। তাঁরাও অনেক খোঁজার পর রনিকে না পেয়ে পাগলের মতো হয়ে যান। আর তার বন্ধুরা সবাই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। রনির আত্মীয়-স্বজন তার বাবা-মাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। তাঁদের একমাত্র সন-ানের লাশটা পর্যন- না পেয়ে সেখান থেকে একরাশ দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। কাঁদতে কাঁদতে একসময় তাঁদের চোখের জলও শুকিয়ে যায়।

এরপর কেটে যায় ৫টি বছর। কিন’ খোঁজ পায় না তাঁদের একমাত্র সন-ান রনির। তাঁরা দুজন এখন প্রতি শনিবার মহামায়া গিয়ে বসে থাকেন তাঁদের একমাত্র সন-ানের আশায়। এখনো তাকে ভুলতে পারেনি রনির বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠীরা। কেননা রনি ছিল সবারই প্রিয় পাত্র।

মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়, ৯ম শ্রেণি॥

Leave a Reply