রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

আওয়ামী লীগ নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে- বিএনপি

16278_bnp

চতুর্থ দফার নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ
করেছে বিএনপি। দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অগ্রগামিতা দেখে ক্ষমতাসীনরা তাদের নীলনকশা পরিবর্তন করেছে। নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে কেন্দ্র দখলের পর রাজকীয় কায়দায় ব্যালটে সিল মেরেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখল, ছিনতাই, বিএনপি সমর্থকদের মারধর ও ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিয়েছে। চতুর্থ দফার ৯১টি উপজেলা নির্বাচনে ২৫টির বেশি কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। এ দখলের প্রতিবাদে বিএনপি শিগগিরই কর্মসূচি দেবে। চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ শেষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, ৯১টির মধ্যে ঝিনাইদহ, কুমিল্লা উত্তর, চট্টগ্রাম উত্তর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, বরিশাল উত্তর, মৌলভীবাজার, বাউফল, ধামরাই, কানাইঘাট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগর, ফেনীর সোনাগাজী, ফুলগাজী, বটিয়াঘাটা, বেতাগী, নলছিটি, কাঠালিয়া, ঈশ্বরদী, বানারীপাড়া, মনপুরা, দৌলতখানসহ ২৫টি উপজেলায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দখল করে নিয়েছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে তারা নিজেরাই ভোট দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। রিজভী আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীকে নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েছিল। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে কিন্তু আমরা তো কোন সুফল পেলাম না। এত তাণ্ডবের পরও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। কারণ ভোট জালিয়াতির পথ সুগম করতেই সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। রিজভী বলেন, নির্বাচনে প্রশাসন রক্ষক হিসেবে কাজ করলেও তারা ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছে। উপজেলা নির্বাচনই প্রমাণ করে তাদের আজ্ঞাবহ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নিলে কখনই বিএনপি জয়লাভ করতে পারতো না। রিজভী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলে সরকার পরিবর্তন হয় না। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের রায় করায়ত্ত করতে সরকার তাণ্ডব চালিয়েছে। উপজেলা নির্বাচনেই যদি আওয়ামী লীগ এমন তাণ্ডব চালায়, তাহলে এদের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে কি পরিণতি হতো? আসলে নির্বাচনের আগে বিএনপি যে আশঙ্কা করেছিল তা সত্যিই বাস্তবায়িত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমদ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভোটগ্রহণ চলাকালে রিজভী আহমেদ বলেন, চতুর্থ দফার নির্বাচন ‘অদ্ভূত জবরদখলের নির্বাচন’। ডাকাতদের কায়দায় সরকার তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল করে বিরোধীদের বিজয় ছিনিয়ে নিচ্ছে। কুমিল্লার বরুড়া, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, বরিশালের আগৈলঝরা, মৌলভীবাজার, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, পটুয়াখালীর বাউফল সহ আরও অনেক উপজেলায় ফিল্মি স্টাইলে কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগৈলঝরার একটি কেন্দ্রে আধা ঘণ্টায় ১৮শ’ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। অনেক স্থানে রাতেই ভোট কাস্ট করা হয়েছে।  ফেনীর ফুলগাজীতে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ স্থগিত করলেও থানা নির্বাহী কর্মকর্তা চালু করে দেন। এই হলো প্রশাসনের অবস্থা। এ উপজেলা নির্বাচন অদ্ভূত জবরদখলের নির্বাচন।
চিঠি দিয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে ইসি
এদিকে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই চিঠি দিয়ে সেনাবাহিনীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া হয়নি। ইসি’র এ চিঠি লোক দেখানো। আসলে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। সেনাবাহিনীকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

 

উৎস- মানবজমিন