বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

আওয়ামী লীগ জনআতঙ্কে ভুগছে

25538_f2

আওয়ামী লীগ সরকার জন-আতঙ্কে ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়া। মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ধলেশ্বরীর পাড়ে লাখো জনতার সমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ভয় পায়। এ জন্য তারা সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় না। বিএনপির শক্তি জনগণ আর আওয়ামী লীগের আতঙ্ক জনগণ। তিনি আওয়ামী লীগের জন-আতঙ্ক রোগ হয়েছে। কুকুর কামড়ালে যেমন মানুষের জলাতঙ্ক রোগ হয়, তেমনি আওয়ামী লীগেরও জন-আতঙ্ক রোগ হয়েছে। মানুষ দেখলেই ভয় পায়। মানুষ দেখলেই আঁতকে ওঠে। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কি কেউ নিরাপদ? এ সরকারের আমলে আপনি, আমি কেউ নিরাপদ নই। এ সরকার যত দিন জবরদখল করে ওই চেয়ারে থাকবে, তত দিন কেউ নিরাপদ নন। গতকাল সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। গুম-খুন, অপহরণসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগকে ‘ঝেঁটিয়ে’ দূর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময় এলে খুন-গুমের বিচার হবে। সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আগেরবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়ে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল, এবার ৪২ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হবে। এ জন্য নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ গত ৫ বছর দেশের মানুষকে অনেক কাঁদিয়েছে। এবার তাদের কাঁদতে হবে। আপনাদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইবে। মানুষের কাছে হাত পাততে হবে, পায়ে ধরতে হবে। কারণ তারা অনেক অপরাধ করেছে। কিন্তু তাদের জঘন্য অপরাধের কোন ক্ষমা নেই। দুর্নীতি লুটপাটের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টাকা মেরে খেয়েছে। এরা আর পদ্মা সেতু করতে পারবে না। কারণ তাদের আর সেই সময় দেয়া হবে না। খালেদা জিয়া জনগণের উদ্দেশে বলেন, গত বছর আপনারা আন্দোলন করে ঢাকা থেকে সারা দেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। এবার আন্দোলন হবে ঢাকাসহ সারা দেশে। এ জন্য তারা এখন জনসমাবেশ করতে দিতে ভয় পায়। রাজধানীতে আমাকেও নাকি জনসভা করতে দেবে না। দেখা যাক কি হয়। কারণ দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই।
র‌্যাব এখন ক্যানসার হয়ে গেছে: গুম-খুনসহ অপহরণে র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, র‌্যাব এখন এক আতঙ্কের নাম। অথচ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ধরার জন্যই একদিন আমরা র‌্যাব গঠন করেছিলাম। র‌্যাবকে সংস্কার করে কোন লাভ হবে না। র‌্যাব ক্যানসার হয়ে গেছে, এটি বাতিল করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের স্ব-স্ব বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, কোর্ট মার্শাল করতে দেয়া হয়নি। তাদের অবসরকালীন সুবিধা বাতিল ও খুনের বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। এ সরকার তাদের শাস্তি না দিলে পরে যে সরকার আসবে তারা তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবে। তারা কার জামাই তা দেখা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের বোনজামাই দুর্ধর্ষ জঙ্গি শায়খ আবদুর রহমান। এ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইকে আমরা জীবিত অবস্থায় ধরেছিলাম। আমরা তাদের গুলি করে হত্যা করিনি। কিন্তু এখন র‌্যাব টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করছে। তারা এখন পেশাদার খুনি হয়েছে। এ জন্য র‌্যাব এখন বাতিল করতেই হবে। সুশীল সমাজের কেউ কেউ না বুঝে র‌্যাব সংস্কারের কথা বলছেন। সংস্কার-টংস্কার দিয়ে কিছুই হবে না। এদের ভেতরে ক্যানসার হয়ে গেছে। লক্ষ্মীপুরের যুবদল নেতা সোলায়মানকে উত্তরা থেকে কোলের বাচ্চা ছুড়ে ফেলে দিয়ে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। লাকসামের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরুকে র‌্যাব-১১’র তারেক সাঈদ গুম করেছে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা আপনারা দেখেছেন। কাউন্সিলর নজরুলের গুমের ঘটনা দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকারকে ড্রাইভারসহ কিভাবে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা দেখে ফেলায় আরও ৪ জন দরিদ্র মাঝিকেও হত্যা করা হয়েছে। তাদের লাশ পরে শীতলক্ষ্যায় পাওয়া গেছে। কাজেই এ র‌্যাবকে বাতিল করতেই হবে। এর পরিবর্তে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন আরেকটি বাহিনী গঠন করা যেতে পারে। তিনি এসব গুম-খুনের ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির সম্মুখীন করা হবে বলে উল্লেখ করেন। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন কারও কোন নিরাপত্তা নেই। আমি নিজেও নিরাপদ নই। কোন ধর্মের মানুষেরই আজ কোন নিরাপত্তা নেই। বরং মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষই এ সরকারের হাতে নির্যাতিত ও নিগৃহীত হয়েছে। শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের হত্যা করে লাশ গুম করেছে। সারা দেশের মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। হিন্দুদের যত জমি ও সম্পদ আওয়ামী লীগ দখল করেছে। এ সরকারকে সরিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্যই যুবসমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে হবে।
থিয়েটার রোডের মুক্তিযোদ্ধার দল আওয়ামী লীগ: বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের দল দাবি করলেও তারা হলো সীমান্ত পাড়ি দেয়া থিয়েটার রোডের মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিতে সাহস পায়নি। তাজউদ্দীনের মেয়ে তার বইয়ে পরিষ্কারভাবে লিখেছেন, ‘তাদের নেতা তাজউদ্দীন সাহেবকে বলেছিলেন, ২৭ তারিখ (মার্চ) হরতাল ডেকেছি। বাসায় গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও।’ আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী দলটির নাম দিয়েছিলেন ‘নিখিল বাংলার লুটপাট সমিতি’। এখন থেকে আওয়ামী লীগকে সেই নামেই ডাকা হবে। ১৯ দলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে পাঠানো চিঠিতে বলেছিলেন, আপনিও দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমিও দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। কিন্তু শেখ হাসিনা জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হননি। আওয়ামী লীগের এ মিথ্যাচার বন্ধ করতে হবে। ৫ই জানুয়ারি কোন ভোট হয়নি। সেদিন ভোটকেন্দ্রে কোন মানুষ ছিল না। কুকুর পাহারা দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ কাউকে সম্মান দিতে জানে না। আমাদের দেশে একজন নোবেল বিজয়ী সম্মানিত ব্যক্তি রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার কাছ থেকে গ্রামীণ ব্যাংক কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে তাকে যথাযথ সম্মান দেবো এবং গ্রামীণ ব্যাংক ফিরিয়ে দেবো। গুম-খুন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এসব আওয়ামী লীগের কাছে নতুন কিছু নয়। একাত্তরের পর রক্ষীবাহিনী দিয়ে যা করেছিল এখন র‌্যাব দিয়ে তা করছে। বিএনপির ৩১০ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ৬৫ জনকে গুম করেছে। এসব গুম-হত্যার বিচার করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নিজেই দুর্নীতি-হত্যা-গুমে জড়িত। সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দেয়ার কারণে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। তাকে গুমের ঘটনা যে দেখেছে তাকেও গুম করা হয়েছে। শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকেও র‌্যাব গুম করেছে। খালেদা জিয়া বলেন, ফেনীর ফুলগাজীতে আওয়ামী লীগের দুই হাজারীকে আড়াল করতে বিএনপি নেতার নামে মামলা দেয়া হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনিও একজন খুনি। তারও একদিন বিচার করা হবে। সেই খুনিকে এখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা বানানো হয়েছে। তিনি কি উপদেশ দেবেন? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মুন্সীগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি। এখানকার জনগণ চেনে শুধু ধানের শীষ। তাই এখানকার একটি আসন কেটে নেয়া হয়েছে। এখান থেকে বিএনপির কোন নেতা কখনও ফেল করতেন না। আওয়ামী লীগের কারসাজিতে সবাই ফেল করেছেন। এবারও ডেকেছিল কয়েকটি আসন দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি করি না। আমরা বলেছি জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করবো। তারা সেই রাজনীতি করে না।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর গতকাল মুন্সীগঞ্জ শহরে জনসভায় বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। এর আগে ২০০১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাটের এ মাঠে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। তবে ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর ব্রিজ উদ্বোধনের সময় বালুর মাঠে বক্তব্য রেখেছিলেন। তা ছাড়া ২০১৩ সালে লৌহজংয়ের গোয়ালিমান্দ্রায় হিন্দু মন্দির ভাঙচুর পরিদর্শনে এক জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, গাজীপুর সিটি মেয়র প্রফেসর এমএ মান্নান, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লা বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিমউদ্দিন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, সাংগঠনিক সম্পাদক আকম মোজাম্মেল হক, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বক্তব্য দেন। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপন, পৌর মেয়র ইরাদুত মানু, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিন আলী, লৌহজং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আতোয়ার হোসেন বাবুল। এর আগে বেলা ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় মুন্সীগঞ্জের জনসভামঞ্চে পৌঁছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর জাসাসের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে শতাধিক মাইক টাঙানো হয়।
জনসমুদ্র মুন্সীগঞ্জ শহর: খালেদা জিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুর ১২টা থেকেই জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন মানুষ। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, লৌহজং, শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, ট্রাক, নসিমন, করিমন, লঞ্চ ও ট্রলারযোগে জনসভায় আসেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বেলা ২টার দিকেই জনসভাস্থল লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জনসভাস্থল থেকে ১ কিলোমিটারজুড়ে মানুষের এ সমাগম ঘটে। বক্তব্যের পর মুন্সীগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসে পৌঁছে কিছু সময় বিশ্রাম নেন তিনি। এরপর রাত সোয়া ৮টায় ঢাকার গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন।